গবেষণা প্রতিষ্ঠান মফেথ নাথানসন ও দ্য হলিউড রিপোর্টারের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত বছর গুগলের এ ভিডিও প্লাটফর্ম বিজ্ঞাপন খাত থেকে আয় করেছে ৪০ দশমিক ৪ বিলিয়ন বা ৪ হাজার ৪০ কোটি ডলার। ইউটিউবের এ আয় ডিজনি, এনবিসি, প্যারামাউন্ট ও ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারির (ডব্লিউবিডি) মতো চার বড় মিডিয়া জায়ান্টের সম্মিলিত বিজ্ঞাপন বাবদ আয়ের (৩৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার) চেয়েও বেশি। খবর টেকক্রাঞ্চ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একসময় যারা বড় বাজেটের সিনেমা ও জনপ্রিয় টিভি শোর মাধ্যমে দর্শক মাতিয়ে রাখত, সেই স্টুডিওগুলো এখন ইউটিউবের গতির কাছে হার মানছে। দর্শক এখন প্রথাগত টিভি ছেড়ে ডিজিটাল প্লাটফর্মের দিকে ঝুঁকেছে। সে অনুযায়ী নিজেদের কৌশল বদলে ফেলেছে বিজ্ঞাপনদাতারাও।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের চিত্রটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ওই বছর চার বড় স্টুডিওর বিজ্ঞাপন বাবদ সম্মিলিত আয় ছিল ৪১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার, যেখানে ইউটিউবের আয় ছিল ৩৬ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে প্রথাগত মিডিয়া হাউজের টিভি দর্শকের সংখ্যা কমছে। নতুন নতুন স্ট্রিমিং প্লাটফর্মে বড় অংকের বিনিয়োগ করা সত্ত্বেও ইউটিউবের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার সঙ্গে পাল্লা দেয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
শুধু বিজ্ঞাপনই নয়, ইউটিউবের মোট আয়ের পরিমাণও আকাশচুম্বী। গুগলের প্যারেন্ট কোম্পানি অ্যালফাবেট জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ইউটিউবের মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৬০ বিলিয়ন বা ৬ হাজার কোটি ডলারে। এ সাফল্যের পেছনে ইউটিউব প্রিমিয়াম, ইউটিউব মিউজিক, ইউটিউব টিভি ও এনএফএল সানডে টিকিটের মতো সাবস্ক্রিপশন সেবার বড় ভূমিকা রয়েছে।
তুলনামূলকভাবে গত বছর নেটফ্লিক্সের মোট আয় ছিল ৪৫ দশমিক ২ বিলিয়ন বা ৪ হাজার ৫২০ কোটি ডলার। ডিজনি ও অন্য মিডিয়া হাউজগুলোও এখন সাবস্ক্রিপশনের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। যেমন ডিজনির মিডিয়া ব্যবসার গত বছরের মোট আয় ছিল ৬০ দশমিক ৯ বিলিয়ন বা ৬০ হাজার ৯০ কোটি ডলার।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওমডিয়ার সিনিয়র অ্যানালিস্ট দাউদ জ্যাকসন জানান, ইউটিউব বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিডিও পরিষেবা। খুব শিগগিরই প্লাটফর্মটি ৩০ বিলিয়ন বা তিন হাজার কোটি ভিডিওর মাইলফলক স্পর্শ করার পথে রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মাসে ইউটিউবে মোট ভিডিওর সংখ্যা ২৯ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৯০০ কোটি অতিক্রম করেছে। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ছোট ভিডিওর জনপ্রিয়তা এ প্রবৃদ্ধির মূল কারণ।
তবে আয়ের দিক থেকে প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটার তুলনায় ইউটিউব এখনো পিছিয়ে রয়েছে। ২০২৫ সালে মেটার বিজ্ঞাপন বাবদ আয় ছিল ১৯৬ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ প্রায় ২০ হাজার কোটি ডলারের কাছাকাছি।
বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিজ্ঞাপনদাতারা এখন ইউটিউবকে বেছে নিচ্ছেন। কারণ তরুণ প্রজন্মের বড় একটি অংশ অধিকাংশ সময় এখানেই ব্যয় করছে। এছাড়া বছরের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ইউটিউব কেবল বিজ্ঞাপন থেকেই ১১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে।
আয়ের পাশাপাশি প্রযুক্তির সুরক্ষায়ও নতুন মাত্রা যোগ করছে ইউটিউব। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি ‘ডিপফেক’ ভিডিও শনাক্ত করতে ইউটিউব নিজস্ব প্রযুক্তি আরো বিস্তৃত করেছে। এখন থেকে সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকদের জন্য এ প্রযুক্তি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হচ্ছে। কেউ যদি মনে করেন, তাদের এআই-জেনারেটেড ভুয়া ভিডিও ইউটিউব নীতিমালা লঙ্ঘন করছে, তবে তারা সেটি সরানোর জন্য অনুরোধ করতে পারবেন।










