চলতি বছরের মার্চে শেষ হচ্ছে ভারতের ২০২৩-২৪ সালের অর্থবছর। দেশটিতে চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৭ শতাংশ করা হয়েছে। গতকাল এ পরিসংখ্যান প্রকাশ করে দেশটির ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিক্যাল অফিস। এর আগে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির কথা জানিয়েছিল সংস্থাটি। খবর ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে।
অন্তত ছয়টি সংশোধনের পর এ পরিসংখ্যান প্রকাশ করল রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি। এর আগে অক্টোবর ও নভেম্বরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে ৭ শতাংশের এ সূচক সংশোধিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মাইকেল পাত্র।
সম্প্রতি দেশটির অবকাঠামো প্রকল্প উন্নয়নে অর্থ ব্যয় বৃদ্ধি করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামনের নির্বাচনে তৃতীয় মেয়াদে মোদিকে জয়ী করতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির এ পূর্বাভাস কাজে লাগবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকদের একটি অংশ।
দেশটির অর্থনীতি সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে পেয়েছে, যা আগের প্রান্তিকে ছিল ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। মূলত প্রবৃদ্ধির হার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় অর্থনীতি নিয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছেন দেশটির অর্থনীতিবিদরা।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল রেটিংসের মতে, ভারত আগামী তিন বছরে দ্রুত বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতির দেশ হিসেবে উন্নীত হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে দেশটি।
এসঅ্যান্ডপি প্রত্যাশা করে, ভারত বর্তমানে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে চলতি অর্থবছরে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। ২০২৭ অর্থবছরে দেশটির আনুমানিক প্রবৃদ্ধি বেড়ে দাঁড়াবে ৭ শতাংশে। এর বিপরীতে চীনের প্রবৃদ্ধি কমবে। ২০২৬ সালে চীনের প্রবৃদ্ধি কমে হবে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। চলতি বছর চীন ৫ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে।
অর্থনীতিবিদরা জানান, রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার মনিটারি পলিসি কমিটি আগামী কয়েকটি প্রান্তিকের জন্য সুদের হার ৬ দশমিক ৫ শতাংশের নিচে নামাতে অস্বীকার করেছে। সুদের হার কমালে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে যেতে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করেছেন। নির্বাচনের বছরে দেশটির নীতিনির্ধারকরা এটা মেনে নিতে চাচ্ছেন না।
এর আগে গত বছরের আগস্টে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তখন গভর্নর শক্তিকান্ত দাস বলেন, ‘সার্বিক মূল্যস্ফীতি সহনশীল মাত্রায় আনলেই চলবে না। এটাকে ৪ শতাংশের মধ্যে আটকে রাখতে হবে।’










