ইরাকের প্রধান খাদ্যশস্যের মধ্যে গম অন্যতম। দেশটিতে কৃষিপণ্যটির চাষ হলেও তা অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়। ফলে গমের চাহিদা পূরণে ইরাককে নির্ভর করতে হয় আমদানির ওপর। সম্প্রতি আমদানি কমিয়ে এ খাতে স্বনির্ভরতা অর্জনের চেষ্টা করছে দেশটি। এ লক্ষ্যে কৃষিপণ্যটির উৎপাদন বাড়াতে ২০১৯-২০ মৌসুমে আবাদি জমির পরিমাণ বাড়াচ্ছে ইরাক। দেশটির সরকারি সূত্র সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে। খবর রয়টার্স।

ইরানের কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ মৌসুমে সব মিলিয়ে সাড়ে ২২ লাখ হেক্টর গম চাষ করবে দেশটি, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। আগের মৌসুমে ইরাক সাড়ে ১৭ লাখ হেক্টর গমের আবাদ করেছিল। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কৃষিপণ্যটির আবাদি জমির পরিমাণ বাড়ছে পাঁচ লাখ হেক্টর।

দেশটির সরকারি কর্মকর্তা মোহাম্মাদ আল-কাইসি বলেন, এই প্রথমবারের মতো ইরাক বিপুল পরিমাণ জমিতে গমের আবাদ করতে যাচ্ছে। গত মৌসুমের ন্যায় এবারো যদি অনুকূল আবহাওয়া বিরাজ করে, তবে কৃষিপণ্যটির রেকর্ড ফলনের প্রত্যাশা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। এতে দেশটি কৃষিপণ্যটির আমদানি কমিয়ে এ খাতে স্বনির্ভরতা অর্জন করতে পারবে।

জুলাইয়ে ইরাকের কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, চলতি বছরের উৎপাদন মৌসুমে দেশটি মোট সাড়ে ৪৭ লাখ টন গম উৎপাদন করেছে।

ইরাক মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রধান গম আমদানিকারক দেশ। দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহকৃত মোট গমের অর্ধেকের বেশি থাকে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানীকৃতদের দখলে।

দেশটির সরকারি সূত্র অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে প্রতি বছর আন্তর্জাতিক বাজার থেকে গড়ে ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টন গম আমদানি করে ইরাক।

ইনডেক্স মুন্ডির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ইরাক সব মিলিয়ে ৩০ লাখ টন গম উৎপাদন করেছিল। এর বিপরীতে কৃষিপণ্যটির আমদানি করেছিল ৩৮ লাখ ৬৩ হাজার টন। এবার দেশটির গম উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় ৬০ শতাংশ বেড়ে ৪৮ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। এদিকে উৎপাদন বৃদ্ধির জেরে এ সময়ে পণ্যটির আমদানি কমে আসতে পারে। এবার আগের বছরের তুলনায় ১৪ দশমিক ১৬ শতাংশ কমে ইরাকের গম আমদানি দাঁড়াতে পারে ৩২ লাখ টনে।

উল্লেখ্য, গমের পাশাপাশি এবার মৌসুমে

যবের আবাদও বাড়াচ্ছে ইরাক। এ মৌসুমে মোট সাড়ে ১২ লাখ হেক্টর জমিতে যবের আবাদ করতে যাচ্ছে দেশটি।