জাপান চার বছরের মধ্যে গত জানুয়ারিতে শিল্পোৎপাদনে দ্রুততম হ্রাস দেখেছে। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক মন্দা ঘোষণার পর এটি দেশটির অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ধাক্কা। সম্প্রতি জাপান সরকারের দেয়া তথ্যানুসারে, ২০২০ সালের মে মাসের পর এত বড় পতন দেখা গেল। বিশেষ করে গত বছরের শেষের দিকে মোটর গাড়ির উৎপাদন কমে যাওয়া ও চালান স্থগিত হওয়া অর্থনৈতিক উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়। খবর রয়টার্স।

দেশটির অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প বিষয়ক মন্ত্রণালয় এমইটিআইয়ের তথ্যে দেখা গেছে, আগের মাসের তুলনায় জানুয়ারিতে শিল্পোৎপাদন ৭ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। এর আগেও উৎপাদন কমার পূর্বাভাস দিয়েছিল এমইটিআই। তবে তখন ১৫টি শিল্পের মধ্যে ১৪টিতে উৎপাদন হ্রাসের হিসাব করে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ কমার পূর্বাভাস দিয়েছিল। কিন্তু চূড়ান্ত হিসাবে দেখা গেছে প্রকৃত অবস্থা এর চেয়েও খারাপ।

সামগ্রিক বিবেচনায় গত জুলাইয়ের পর প্রথমবারের মতো শিল্পোৎপাদনের পূর্বাভাস কমিয়েছে জাপানের শিল্প মন্ত্রণালয়। গত বছরের শেষে মন্দাক্রান্ত হওয়ায় জাপানের সামনে বেশকিছু অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিষয়গুলো উল্লেখ করে পুনরুদ্ধারের চেষ্টার কথা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এদিকে লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের বিশ্লেষকরা বলছেন, চলতি প্রান্তিকে জাপানের জিডিপি আবার সংকুচিত হতে পারে। মন্দার উল্লেখ করে সংস্থার সহকারী অর্থনীতিবিদ গ্যাব্রিয়েল এনজি বলেন, ‘জানুয়ারিতে শিল্পোৎপাদন হ্রাস থেকে বোঝা যায় এ প্রান্তিকে আবারো জিডিপি হ্রাস পাবে।’

মন্দার কারণে সম্প্রতি জার্মানির কাছে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির আসন হারিয়েছে জাপান। দেশটির শিল্পোৎপাদন হ্রাসে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে মোটর গাড়ি শিল্প। জানা গেছে, জানুয়ারিতে উৎপাদন সবচেয়ে বেশি কমেছে এ শিল্পে, যা ডিসেম্বরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ কম। সাধারণ যাত্রীবাহী গাড়ি ও বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির উৎপাদন কমায় গাড়ির উৎপাদনের সামগ্রিক পরিসংখ্যান নিচের দিকে নেমেছে। এছাড়া জাপানি অটোমেকার টয়োটার তৈরি গাড়ির ডিজেল ইঞ্জিনের সনদে অনিয়মের কারণে জানুয়ারিতে কিছু মডেলের চালান স্থগিত ছিল। প্রতিষ্ঠানটির ছোট-কার ইউনিট দাইহাটসুর নিরাপত্তা পরীক্ষা-সংক্রান্ত গরমিলের কারণে জানুয়ারি পর্যন্ত দেশীয় প্লান্টে উৎপাদন স্থগিত ছিল। কোম্পানিটি ফেব্রুয়ারিতে ধীরে ধীরে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করেছে।

জাপানি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ডাইওয়া সিকিউরিটিজের অর্থনীতিবিদ কোটা সুজুকি জানান, অটোমোবাইল শিল্প জাপানে বেশ শক্তিশালী ছিল। কিন্তু পণ্যের দুর্বল বৈশ্বিক চাহিদার কারণে উৎপাদন হ্রাস জাপানের অর্থনীতির জন্য একটি বড় ধাক্কা।

এছাড়া জানুয়ারিতে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিসহ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি এবং তথ্য ও যোগাযোগ সরঞ্জামের উৎপাদন কমেছে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ।

শিল্প মন্ত্রণালয় পরিচালিত জরিপে আশা করা হচ্ছে, ফেব্রুয়ারিতে কারখানা উৎপাদন ৪ দশমিক ৮ শতাংশ ও মার্চে ২ শতাংশ বাড়বে। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, ফেব্রুয়ারি ও মার্চের জন্য দেয়া পূর্বাভাস জানুয়ারিতে কমে আসা উৎপাদনের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার মতো যথেষ্ট বড় নয়।

চলতি বছরের শুরুতে জাপানের নোটো উপদ্বীপে আঘাত হানে শক্তিশালী ভূমিকম্প, যা জানুয়ারিতে উৎপাদকদের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলেছিল বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ফেব্রুয়ারি ও পরের মাসে এর সম্ভাব্য প্রভাব অস্পষ্ট বলেও জানান কর্মকর্তারা।

এদিকে পৃথক প্রতিবেদনে জানা যায়, জানুয়ারিতে জাপানের খুচরা বাজারে বিক্রি বেড়েছে, যা শিল্প খাত থেকে আসা কিছু চাপ মোকাবেলা করতে সহায়তা করতে পারে। বছরওয়ারি হিসাবে ২৩তম মাসের মতো জানুয়ারিতে বিক্রি বেড়েছে ২ দশমিক ৩ শতাংশ, যা মধ্যম মানের বাজার পূর্বাভাসের সঙ্গে মিলে গেছে।