যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান কৃষি অঞ্চলগুলোয় লম্বা সময় ধরে শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করছে। বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলীয় ভুট্টা উৎপাদন বেল্ট ও মধ্যপশ্চিমাঞ্চলের উত্তরাংশ এ সমস্যায় সবচেয়ে বেশি জর্জরিত। ‍শুষ্ক আবহাওয়ায় ভুট্টা ও সয়াবিন উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন এসব অঞ্চলের কৃষক। আবহাওয়া পরিস্থিতি খরার দিকে মোড় নিতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্লাটস।

পূর্বাঞ্চলীয় ভুট্টা উৎপাদন বেল্ট ও মধ্যপশ্চিমাঞ্চল যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান কৃষি অঞ্চল। ভুট্টা ও সয়াবিন উৎপাদনে এসব অঞ্চল সবচেয়ে বেশি পরিচিত। এসব শস্যের উৎপাদন পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভরশীল। আবহাওয়া শুষ্ক হয়ে উঠলে উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়, সংকোচন দেখা দেয় সরবরাহে।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে ভুট্টা ও সয়াবিনের নতুন বিপণন মৌসুম শুরু হবে। আগামী বছরের আগস্টে মৌসুম শেষ হবে। এ মৌসুমে বৈরী আবহাওয়ায় শস্য দুটির সরবরাহ ব্যাপক হারে কমে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অপ্রতুল সরবরাহে এরই মধ্যে ভুট্টা ও সয়াবিনের দাম লক্ষণীয় মাত্রায় বেড়েছে। সরবরাহ আরো কমে যাওয়ায় আশঙ্কায় ক্রেতারা বেশি দামেই এসব শস্য ক্রয়ের হার বাড়িয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্যের অন্যতম বড় কেন্দ্র লুইজিয়ানা রাজ্যের নিউ অরলিন্স শহর। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্লাটসের হিসাব অনুযায়ী, সেখানকার বাজারে ১৬ জুন সিআইএফ চুক্তিতে (কস্ট, ইন্স্যুরেন্স অ্যান্ড ফ্রেইট) প্রতি টন ভুট্টার দাম ছিল ২৭৪ ডলার ৫০ সেন্ট, যা এর আগের সপ্তাহের তুলনায় ১০ ডলার বেশি। রফতানিযোগ্য প্রতি টন সয়াবিনের দাম ছিল ৫৫৮ ডলার ৬৯ সেন্ট, যা এর আগের সপ্তাহের তুলনায় ২২ ডলার বেশি।

জুন-আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ভুট্টা ও সয়াবিন ফলন বাড়ার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। জুনে তুলনামূলক শুষ্ক আবহাওয়ায় মধ্যপশ্চিম অঞ্চলে আগামী মাসগুলোয় পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন হবে। তবে প্রধান অঞ্চলগুলোয় বর্তমানে উৎপাদন পরিস্থিতি নিয়ে সম্ভাবনা দেখছেন না বিশ্লেষকরা।

মার্কিন খরা তদারক প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৭ জুন পর্যন্ত আইওয়ার ৪৯ শতাংশ জমি খরার সম্মুখীন হয়েছে। এছাড়া ইলিনয়ের ৬৫ শতাংশ ও নেবরাস্কার ৭৫ শতাংশ জমি খরার মুখে পড়তে পারে। 

মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) জানায়, ২০২৩-২৪ মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড পরিমাণ ভুট্টা ও সয়াবিন উৎপাদন হতে পারে। ভুট্টা উৎপাদনের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৩৮ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টন। গত বছরের তুলনায় উৎপাদন ১১ শতাংশ বাড়বে। সয়াবিন উৎপাদন ধরা হয়েছে ১২ কোটি ২৭ লাখ টন। গত বছরের তুলনায় উৎপাদন ৫ শতাংশ বাড়তে পারে। তবে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, আবহাওয়ায় শুষ্ক পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ইউএসডিএর এ পূর্বাভাস কোনোভাবেই সত্য হবে না।