চলতি বছরের মে মাসে সৌদি আরবে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ২ দশমিক ৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ২০২২ সালের মে মাসে মুদ্রাস্ফীতি ছিল ২ দশমিক ২ শতাংশ। মূল্যস্ফীতির পেছনে প্রধান কারণ ছিল আবাসন খাতে দাম বাড়া, পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়া। সম্প্রতি এমনটাই জানিয়েছে দেশটির জেনারেল অথরিটি অব স্ট্যাটিসটিকস (জিএএসটিএটি)। খবর আরব নিউজ।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, আবাসন, পানি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে মে মাসে বছরওয়ারি দাম বেড়েছে ৮ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সময়ে দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে খাদ্য ও পানীয়ের দাম। দেশটিতে মূল্যস্ফীতি সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কয়েক মাস থেকেই দৃশ্যমান। মার্চ ও এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি ছিল ২ দশমিক ৭ শতাংশ। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ছিল যথাক্রমে ৩ দশমিক ৪ ও ৩ শতাংশ। চলতি বছরের মে মাসে বছরওয়ারি বাড়ি ভাড়া বেড়েছে ৯ দশমিক ৯ শতাংশ। বিপরীতে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া বেড়েছে ২৩ দশমিক ৭ শতাংশ। জিএএসটিএটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বাসা ভাড়া বৃদ্ধিই ছিল মে মাসে মূল্যস্ফীতি বাড়ার প্রধান অনুঘটক। সৌদি আরবের ভোক্তাদের মধ্যে এর প্রভাব পড়েছে বেশি।’
মে মাসে রেস্তোরাঁ ও হোটেল ভাড়া গত বছরের তুলনায় বেড়েছে ৫ শতাংশ। একই সময়ে পরিবহন খরচ বেড়েছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ। চলতি মাসের গোড়ার দিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) পূর্বাভাস দিয়েছিল সৌদি আরবের মূল্যস্ফীতি ২ দশমিক ৮ শতাংশের মধ্যে স্থির থাকার ব্যাপারে। যদিও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তার পরও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে যথেষ্ট স্থিতিশীল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলো নিয়ে আইএমএফ বিশেষ প্রতিবেদন বের করেছে মে মাসে। তাতে প্রকাশিত হয়েছিল একই সুর। দাবি করা হয়েছে প্রকৃত মূল্যস্ফীতি বাড়ার সম্ভাবনা তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোয় খুবই কম। প্রতিবেদন অনুসারে, ‘বাহরাইন, ইরাক, কুয়েত, ওমান, কাতার ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলোর জন্য মূল্যস্ফীতি থাকবে খুব কম। কিছু পণ্যে ভর্তুকি ও মূল্যসীমা নির্ধারণ করে দেয়াটাও তার পেছনে একটা বড় অনুঘটক হিসেবে থাকবে। ডলারের বিপরীতে মুদ্রাগুলোর অবস্থান থাকবে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী। যেখানে অনেক দেশের মুদ্রাই দুর্বল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। খাদ্য ও ভোক্তাপণ্যের সূচক মূল্যস্ফীতির চাপকে অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারবে।’
মে মাসে সৌদি আরবের পাইকারি দাম সূচক বছরওয়ারি ১ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। এপ্রিলে দাম সূচকের তুলনায় কমেছে দশমিক ২ শতাংশ। পরিসংখ্যান ব্যুরো মনে করে ডব্লিউপিআই সূচকের অবনমন মূলত রাসায়ানিক পণ্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। রাসায়নিক পণ্যের দাম মে মাসে কমেছে ২৮ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে পরিবহনযোগ্য পণ্যের দাম কমেছে ২ দশমিক ১ শতাংশ। জিএএসটিএটি জানিয়েছে, ‘খাদ্যপণ্য, পানীয়, তামাক ও টেক্সটাইল পণ্যের দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ। একই সময়ে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম বেড়েছে ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ। শষ্য ও অন্যান্য খাদ্যের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৮ শতাংশ।










