ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের ফলে বিশ্ববাজারে ইস্পাতের সরবরাহ ঘাটতি পূরণে পদক্ষেপ নিচ্ছে ভারতের স্টিলমিলগুলো। ইস্পাতের বৈশ্বিক বাজারে উল্লেখযোগ্য সরবরাহকারী দেশ হিসেবে ইউক্রেন ও রাশিয়ার অবস্থান রয়েছে। তবে সামরিক অভিযানের ফলে দেশ দুটি থেকে শিল্পধাতুটির সরবরাহ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ইউরোপ ও আফ্রিকার ক্রেতারা বর্তমানে ভারতের দিকে ঝুঁকছে বলে জানায় ভারতীয় শিল্পসূত্রগুলো। খবর মিন্ট।
ভারতের শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম জিন্দাল স্টিল অ্যান্ড পাওয়ার (জেএসপিএল) জানায়—ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকান কোম্পানিগুলো ইস্পাতের চাহিদা মেটানোর জন্য বর্তমানে ভারতকে তাদের অন্যতম গন্তব্য হিসেবে বেছে নিয়েছে। যদিও এক মাসে ধাতবপণ্যটির দাম ২০ শতাংশের মতো বেড়েছে।
এক সাক্ষাত্কারে জেএসপিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ভিআর শার্মা বলেন—ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় ইস্পাতের মজুদ ঘাটতি রয়েছে। এ ঘাটতি পূরণের জন্য ভোক্তারা বর্তমানে চীন ও ভারতের ওপর নির্ভর করছে। গত সপ্তাহ ও তার কিছু আগে থেকে এসব অঞ্চলে আমরা বেশ ভালো পরিমাণ ক্রয়াদেশ পাচ্ছি। এর মধ্যে কিছু ক্রেতা মার্চ ও এপ্রিলে তাত্ক্ষণিক সরবরাহের জন্য আবেদন করছে।
গত বছর ভারতের উৎপাদিত আকরিক লোহা ও ইস্পাতের এক-তৃতীয়াংশ ইউরোপে রফতানি করা হয়েছে। এক ব্যবসায়িক প্রতিবেদনের তথ্যে এমনটা দেখা যায়। ২০২১ সালে ভারতের রফতানীকৃত ইস্পাত ও আকরিক লোহার পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৬৩ হাজার টন। ভারতীয় গবেষণা ও বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান স্টিলমিন্টের দেয়া তথ্যে এমনটা দেখা যায়। রফতানীকৃত এসব ইস্পাত ও আকরিক লোহার অধিকাংশের গন্তব্য ছিল ইতালি, বেলজিয়াম, নেপাল ও ভিয়েতনাম।
শিল্প বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের ফলে বিশ্ববাজারে তৈরি হওয়া সংকট মোকাবেলায় প্রধান ভূমিকা রাখবে চীন ও ভারত। এ সময় দেশ দুটি থেকে ইস্পাত ও আকরিক লোহার রফতানি ক্রমেই বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেএসপিএল জানায়, রাশিয়া ও ইউক্রেনের সরবরাহকৃত ইস্পাতের ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে কোম্পানিটির রফতানির পরিমাণ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। বর্তমানে তাদের রফতানির পরিমাণ উৎপাদনের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অবস্থান করছে। এ সময় ইস্পাতের উচ্চমূল্যের ব্যাপারেও আশাবাদী প্রতিষ্ঠানটি।
ভিআর শার্মা বলেন, আমরা বর্তমানে উৎপাদিত ইস্পাতের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত রফতানি করি। সামনের দিনগুলোয় তা ৩৫-৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এ সময় আমরা উচ্চমূল্যের ব্যাপারেও আগ্রহী থাকব। এরই মধ্যে আমরা ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত রফতানির জন্য ক্রয়াদেশ পূর্ণ করেছি। বর্তমানে ৩০ মে পর্যন্ত রফতানি ক্রয়াদেশ গ্রহণ করছি।










