বিদায়ী বছর ভারতের চা রফতানি ১৩ শতাংশ বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ সময় রাশিয়ান ফেডারেশন, কমনওয়েলথ অব ইনডিপেনডেন্ট স্টেটস (সিআইএস) এবং পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোয় ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা রফতানি প্রবৃদ্ধিতে রসদ জুগিয়েছে। তবে দেশটির প্রধান ক্রেতা দেশ ইরানে রফতানির পরিমাণ ছিল নিম্নমুখী। খবর দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন।

২০২১ সালে ভারত ১৯ কোটি ৫৫ লাখ টন চা রফতানি করেছিল। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালে রফতানি বেড়ে ২২ কোটি থেকে সাড়ে ২২ কোটি কেজিতে দাঁড়িয়েছে।

দেশটির চা বোর্ডের দেয়া তথ্যমতে, গত জানুয়ারি-অক্টোবর পর্যন্ত ভারতের চা রফতানি ২০২১ সালের একই সময়ের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেড়েছে। রফতানির পরিমাণ ছিল ১৮ কোটি ৫৩ লাখ ১০ হাজার কেজি।

শিল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, ইরানের সঙ্গে মূল্য পরিশোধসংক্রান্ত জটিলতা তৈরি না হলে রফতানি আরো বাড়ার সম্ভাবনা ছিল। ভারতীয় অর্থোডক্স চায়ের গুরুত্বপূর্ণ বাজার ইরান। ২০২১ সালে দেশটি ছিল দ্বিতীয় শীর্ষ ক্রেতা। ২০২২ সালের জানুয়ারি-অক্টোবর পর্যন্ত দেশটিতে চা রফতানি প্রায় ৯ শতাংশ কমেছে। রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার কেজিতে। দেশটি ভারত থেকে এক মাসেরও বেশি সময় চা আমদানি বন্ধ রেখেছে। ফলে দেশটিতে রফতানি আরো কমতে পারে।

গত বছর তেহরানের জায়গা নিয়েছে অন্যান্য দেশের ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা। অর্থোডক্স চা উৎপাদন ও রফতানি প্রতিষ্ঠান গোল্ডেন হিলস এস্টেটের এন লক্ষণ চেত্তার বলেন, আমরা ইউরোপ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিপুল পরিমাণ চা রফতানি করছি। রাশিয়ায় ভারতীয় চায়ের চাহিদাও বেড়েছে লক্ষ্যণীয় মাত্রায়।

গত বছরের ১০ মাসে রাশিয়ায় ৩ কোটি ২৮ লাখ কেজি চা রফতানি করেছে ভারত। ২০২১ সালের একই সময়ের তুলনায় রফতানি বেড়েছে ১৫ শতাংশ, যা থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৫৩ কোটি ২০ লাখ রুপি।

চা বোর্ড জানায়, সিআইএসভুক্ত দেশগুলোয় ২০২১ সালের একই সময়ের তুলনায় রফতানি ১৮ শতাংশ বেড়ে ৪ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার কেজি বেড়েছে, যা থেকে আয় হয়েছে ৭৩ কোটি ২০ লাখ কেজি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে রফতানি রেকর্ড বেড়েছে। গত বছরের ১০ মাসে দেশটিতে ৩ কোটি ২৯ লাখ ৫০ হাজার টন চা রফতানি করে ভারত, যা ২০২১ সালের একই সময়ের তুলনায় ১৬৫ শতাংশ বেশি। রফতানি থেকে আয় এসেছে ৯৯ কোটি ৯০ লাখ রুপি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, যেসব চা ইরানে বিক্রির কথা ছিল, তা দুবাইয়ে সরবরাহ করা হয়েছে। এ কারণেই আরব আমিরাতে রফতানিতে এমন উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। ইন্ডিয়ান টি অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি সুজিত পাত্র বলেন, ২০২২ সালের মোট রফতানি ২২ কোটি থেকে সাড়ে ২২ কোটি কেজিতে উন্নীত হয়েছে বলে আমাদের প্রত্যাশা। এরই মধ্যে অক্টোবর পর্যন্ত আমরা সাড়ে ১৮ কোটি কেজি চা রফতানি করেছি।

জানা গেছে, গত বছরের নভেম্বরের শেষ দিকে ইরান থেকে চায়ের ক্রয়াদেশ আসা বন্ধ হয়ে যায়। তবে দেশটি কী কারণে আমদানি বন্ধ রেখেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিগগিরই দেশটি আমদানি চালু না করলে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ভারতের চা খাতে।