বিশ্ববাজারে গতকাল আবারো বৃদ্ধি পেয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। চলতি সপ্তাহে জ্বালানি তেলের দামে প্রবৃদ্ধির পরিমাণ ৩ শতাংশের বেশি দাঁড়িয়েছে। কয়েক মাস ধরে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধির বিপরীতে সরবরাহ ঘাটতি চলছে। পাশাপাশি গ্যাস ও কয়লার দাম বাড়ার কারণে বিভিন্ন দেশ আরো বেশি হারে জ্বালানির উৎস হিসেবে তেলের দিকে ঝুঁকছে। এদিকে সংকট মোকাবেলায় জ্বালানি তেলের মজুদ বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। খবর রয়টার্স ও হেলেনিক শিপিং নিউজ ডটকম।
২০১৮ সালের অক্টোবরের পর ব্রেন্ট ক্রুডের ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্য যেকোনো সময়ের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। চলতি সপ্তাহে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে ব্যারেলপ্রতি ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৮৪ সেন্ট বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৮৪ ডলার ৮৪ সেন্ট। ফ্রন্ট মান্থ প্রাইস বৃদ্ধির ক্ষেত্রে টানা ছয় সপ্তাহের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। চলতি সপ্তাহে এটি ৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়।
একই সময়ে ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্য বৃদ্ধি পায় দশমিক ৯ শতাংশ। ৭৪ সেন্ট বৃদ্ধিতে বর্তমানে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআই ক্রুডের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৮২ ডলার ৬ সেন্ট। বৃহস্পতিবার ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল ৮৭ শতাংশ। পরপর আট সপ্তাহ দাম বৃদ্ধির ফলে চলতি সপ্তাহে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধির দিকে ধাবিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কোঅপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টভুক্ত (ওইসিডি) দেশগুলোর জ্বালানি তেলের মজুদ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাওয়ার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। ২০১৫ সালের পর বর্তমানে জ্বালানি তেলের মজুদ সবচেয়ে কম রয়েছে এসব দেশে। কভিড-১৯ মহামারী পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পর বিশ্বব্যাপী চাহিদা বৃদ্ধির বিপরীতে সরবরাহ ঘাটতি দেখা দেয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে গ্যাস ও কয়েলের দাম বৃদ্ধির ফলে বিভিন্ন শিল্পে জ্বালানির বিকল্প উৎস হিসেবে তেলের চাহিদা এ সংকটকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে।
ওয়ানডা করপোরেশনের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক জেফরি হ্যালি জানান, সাপ্তাহিক ভিত্তিতে জ্বালানি তেলের দাম কমার পরিবর্তে বৃদ্ধির ফলে এশিয়ার বাজারগুলোকে সন্তুষ্ট দেখা যাচ্ছে। এর মাধ্যমে এটা বোঝা যায় সামনের দিনগুলোতে জ্বালানির চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাবে।
ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি বৃহস্পতিবার জানায়, জ্বালানি সংকটের ফলে বিশ্বব্যাপী প্রতিদিন জ্বালানি তেলের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়ে ৫ লাখ ব্যারেলে পৌঁছতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে চলতি বছরের শেষ নাগাদ জ্বালানি তেলের দৈনিক চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৭ লাখ ব্যারেল। ওপেক প্লাস তাদের উত্তোলন পরিসীমা বৃদ্ধি করলে এ সংকট মোকাবেলা করা সহজ হতে পারে।
আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেট বিশ্লেষক মাইকেল ট্রান বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজার একটি শক্তিশালী চক্রের দ্বারা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সময়ে চাহিদা বৃদ্ধি ও সরবরাহ ঘাটতি এ চক্রকে পরিচালিত করছে। আমরা সারা বছর যে দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেছি, সে অনুযায়ী তেলের বৈশ্বিক বাজার বহু বছরের মধ্যে প্রাথমিক দিনগুলোতে আটকে আছে, যা কাঠামোগতভাবে একটি শক্তিশালী চক্র তৈরি করে।
বৃহস্পতিবার ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানায়, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি ফার্মগুলো ৬১ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলন বৃদ্ধি করেছে। ফলে ওই সপ্তাহে মোট তেল উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪২ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল।
এদিকে রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেক্সান্ডার নোভাক জানান, প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত তেল উত্তোলন করার সক্ষমতা রয়েছে রাশিয়ার। এ সময় তিনি জানান, দেশটি প্রতিদিন ১ কোটি ১৩ লাখ থেকে ১ কোটি ১৪ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত তেল উত্তোলন করে থাকে। ওপেকের চুক্তি অনুযায়ী অক্টোবরে প্রতিদিন ৯৮ লাখ ৯ হাজার ব্যারেল ও নভেম্বরে ৯৯ লাখ ১৩ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উত্তোলনের কথা রয়েছে রাশিয়ার। তবে প্রতিদিনই কোটার অতিরিক্ত তেল উত্তোলন করে থাকে রাশিয়া।
নোভাক জানান, আমাদের প্রচুর সম্পদ রয়েছে। প্রচলিত জ্বালানি তেলের পাশাপাশি পাথরে মজুদ থাকা তেলও রয়েছে আমাদের হাতে। যদি অতিরিক্ত জ্বালানির প্রয়োজন হয় তাহলে আমরা প্রয়োজনীয় মজুদ বাড়াতে সক্ষম।










