রাষ্ট্রীয় মজুদ পরিপূর্ণ করার পাশাপাশি স্থানীয় বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে গম রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল ভারত। কিন্তু শস্যটির দাম কমার পরিবর্তে গত মাসে রেকর্ড বেড়েছে। ফলে নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা আরো বাড়ানোর কথা ভাবছে দেশটির সরকার। খবর ওয়ার্ল্ড গ্রেইন ডটকম।

রাশিয়া ও ইউক্রেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দুই গম রফতানিকারক দেশ। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশ দুটির মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে শস্যটির আন্তর্জাতিক সরবরাহ সংকটের মুখে পড়ে। তার ওপর ভয়াবহ খরায় ব্যাহত হয় আর্জেন্টিনার উৎপাদনও। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পরই গম রফতানি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ভারত। উদ্দেশ্য ছিল নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে খাদ্যপণ্যের অনিশ্চয়তা থেকে সুরক্ষা দেয়া।

কিন্তু গত বসন্তে শুষ্ক আবহাওয়া ও দাবদাহের কারণে ২০২২-২৩ মৌসুমের গম উৎপাদন কমে ১০ কোটি ৩০ লাখ টনে নেমে যায়। আগের মৌসুমে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১০ কোটি ৯০ লাখ টন। উৎপাদন কমে যাওয়ায় ভারতে গমজাত খাদ্যপণ্যের দাম এক লাফে আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে। বিপরীতে রফতানি ৮০ লাখ টন থেকে কমে নেমে আসে ৫৯ লাখ টনে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত মে মাসে গম রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ভারত সরকার। কিন্তু এ বছরের প্রথম মাসেই স্থানীয় বাজারে শস্যটির দাম বেড়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চে পৌঁছায়। প্রতি টনের মূল্য স্থির হয় ৩৯৩ ডলারে। ফলে দেশটি গম রফতানিতে আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা আরো বাড়াতে যাচ্ছে। সরকার ও শিল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, আগামী এপ্রিলে রফতানি নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করার কথা ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় মার্চের শেষ দিকে বা এপ্রিলের শুরুতেই নিষেধাজ্ঞার সময় বাড়ানো হতে পারে।