থাইল্যান্ডের ফুকেট সমুদ্র সৈকতে বাড়ি কেনায় এগিয়ে রয়েছেন রাশিয়ানরা। এরপর রয়েছেন যথাক্রমে ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং যুক্তরাজ্যের বাসিন্দারা। এই বাড়ি কেনার আড়ালে অর্থ পাচারের আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অর্থপাচারে বড় একটি মাধ্যম হলো আবাসন ও প্রোপার্টি খাতে বিনিয়োগ। ফুকেটে নতুন বাড়ি কেনায় বিদেশীদের বর্তমান আগ্রহ নিয়ে গভীর অনুসন্ধানের প্রয়োজন আছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।
ফুকেটের হোটেল ওয়ার্কার্সের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের প্রথম প্রান্তিকে ফ্ল্যাট অধিগ্রহণের শীর্ষে ছিল রাশিয়ার নাগরিকরা। অন্তত ২৪০টি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছে তারা, যা আমেরিকা, চীন ও যুক্তরাজ্যের তুলনায় বেশি।
এখানকার বাড়িগুলোও চমৎকার। ১১ দশমিক ৭ হেক্টর জমির ওপর নির্মিত একটি আবাসন প্রকল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ বিভিন্ন গাছপালা, বাগান ও খেলার মাঠের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আবাসন প্রকল্পটি দুই ধাপে নির্মিত। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক থাই আবাসন সংস্থা আমাল গ্রুপ এ প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে। সংস্থাটি মূলত মধ্যপ্রাচ্য ও রুশ বিনিয়োগকারীদের সেবা দিয়ে থাকে।
প্রকল্পটির সঙ্গে কাজ করা রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ প্রকল্প বিশ্ববাসীর বসবাসের জন্য একটি ভালো গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, গত ১৮ মাসে অন্তত ২৭ হাজার রুশ নাগরিক থাইল্যান্ডের ফুকেটে বসতি স্থাপন করেছেন। ফলে দেশটির আবাসন খাতের আয় বাড়ছে।
প্রদেশটির লায়ান সমুদ্রতীরে অবস্থিত একটি পাঁচ তারকা হোটেলে বিলাসবহুল ইডেন গার্ডেনের এক ডিনার পার্টিতে সম্প্রতি বক্তব্য রাখেন প্রদেশটির নতুন গভর্নর সোফান সুওয়ান্নারাত। তিনি বলেছেন, ‘ফুকেট একটি স্বর্গ, যারা এখানে তাদের দ্বিতীয় বাড়িটি নির্মাণ করতে চায় তাদের আমরা স্বাগত জানাই।’
থাইল্যান্ডের প্রপার্টি মার্কেট বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ৩১ কোটি ৫০ লাখ ডলারে নির্মিত গার্ডেন অব ইডেন থাইল্যান্ডের আবাসন খাতের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন। দেশটির আবাসন বাজারে ফ্ল্যাট কেনা-বেচা বেড়েছে। এ খাতে রাশিয়া, চীন, ভারত ও ইউরোপের বিনিয়োগ কমলেও উন্নত জীবনের সন্ধানে নতুন ফ্ল্যাট অধিগ্রহণের প্রবণতা বেড়েছে। এসব ফ্ল্যাট ক্রয়ে এগিয়ে রয়েছে রাশিয়ার ধনাঢ্য ব্যক্তিরা।
সি৯ হোটেলওয়ার্কসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিল বার্নেট বলেছেন, ‘বিদেশীরা ফুকেটে বাড়ি করতে চায়, এটা পুরনো খবর। এ সিদ্ধান্ত আমি নিজেই ২০ বছরেরও বেশি আগে নিয়েছিলাম। তখন আমি হংকং থেকে স্থানান্তর হয়ে এখানে এসেছিলাম। এ সংখ্যা এখন বাড়ছে।’
২২শে আগস্ট দায়িত্বগ্রহণের কয়েক দিনের মধ্যে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী স্রেথা থাভিসিন তার ফেউ থাই পার্টির পর্যটন নীতি কমিটির সদস্যদের সঙ্গে ফুকেট পরিদর্শন করেন। তখন তিনি জানিয়েছেন, ২০২৩-এর দ্বিতীয় প্রান্তিকে গুরুতর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সময় জাতীয় প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশে নেমে এসেছে। স্রেথা থাভিসিন বলেছেন, ‘রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কথা ভুলে যেতে হবে। দেশের সর্বোত্তম স্বার্থের কথা ভাবতে হবে।’










