মেক্সিকো থেকে চীনের উৎপাদিত গাড়ি ও যন্ত্রাংশ আমদানি বন্ধ করা উচিত বলে মনে করে মার্কিন গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। পাশাপাশি মেক্সিকো থেকে চীনা সস্তা গাড়ি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে মার্কিন সরকারের নিষেধাজ্ঞা জারি করা উচিত বলেও মনে করে তারা। সম্প্রতি চীনা সস্তা গাড়ি স্থানীয় বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন গাড়ি নির্মাতা অ্যাডভোকেসি গ্রুপ। খবর রয়টার্স।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনা সস্তা গাড়ি আমদানির ফলে হুমকির মুখে পড়বে স্থানীয় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। এছাড়া স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রেতার অভাবে হারিয়ে যেতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছে তারা।
চীনা সরকারের ভর্তুকির ফলে কম মূল্যে গাড়ি নির্মাণ করছে দেশটির প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এসব সস্তা গাড়ি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়েছে অ্যাডভোকেসি গ্রুপ।
গ্রুপটি জানিয়েছে, মুক্ত বাণিজ্যের চুক্তির আওতায় উত্তর আমেরিকার যেসব কোম্পানির সদর দপ্তর চীনের স্থানীয় বাজারে, সেসব প্রতিষ্ঠানের গাড়ি ও এর যন্ত্রপাতি আমদানি বন্ধ করা উচিত। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ও সংশ্লিষ্ট খাতে কর্মসংস্থান সংকুচিত হওয়ার আগেই উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। মেক্সিকোয় উৎপাদিত যানবাহন ও যন্ত্রাংশ হবে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডার বাণিজ্য চুক্তির অধীনে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এমন মন্তব্যে ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়েছে, চীন গাড়ি শিল্পের মান নিশ্চিত করার পর তা বাজারজাত করে। ফলে বিশ্বব্যাপী গাড়ির বাজারে সাশ্রয়ী মূল্যে গাড়ি সরবরাহে চীনের সুনাম রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের বৃহৎ বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি সম্প্রতি মেক্সিকোয় কারখানা খোলায় সাশ্রয়ী মূল্যে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী টেসলাকে ছাড়িয়ে গেছে। গাড়ির পাশাপাশি ব্যাটারির বাজারও দখল নিতে শুরু করেছে চীন।
বিশ্বের শীর্ষ বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির ব্যাটারি উৎপাদনকারী চীন। এরই মধ্যে ইভি সরবরাহের সব বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে তারা। আন্তর্জাতিক এনার্জি এজেন্সির (আইএএ) ২০২৩ সালের রিপোর্টে তা উল্লেখ করা হয়েছে। তাই আগেভাগেই সতর্ক হওয়ার পরামর্শ বিশ্লেষকদের।
প্রসঙ্গত, চীনের বাণিজ্য নীতিকে ‘অন্যায্য’ উল্লেখ করে ২০১৮ সালে দেশটির প্রায় ছয় হাজার পণ্যে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্কারোপ করেন যুক্তরাষ্ট্র। এতে আগের ১৫ শতাংশের সঙ্গে অতিরিক্ত শুল্ক যোগ হয়ে দাঁড়ায় ২৫ শতাংশে। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেনি বাইডেন প্রশাসনও। ফলে পণ্য রফতানিতে অতিরিক্ত শুল্ক এড়াতে কৌশল গ্রহণ করে বেইজিং। বর্তমানে মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পাঠাচ্ছেন দেশটির রফতানিকারকরা।
মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা গাড়ির জন্য ২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হয়। আর দেশটি থেকে গাড়ির যন্ত্রাংশ আনতে হলে শূন্য থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক পরিশোধ করতে হয়। বিপরীতে চীন থেকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা গাড়ি ও যন্ত্রাংশের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত ও বাইডেন প্রশাসনের জারীকৃত ২৫ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হয়।










