ইউরোজোনে সেবা (সার্ভিস) ও উৎপাদন (ম্যানুফ্যাকচারিং) খাত অব্যাহত সংকোচনের মুখে পড়েছে। এজন্য কম চাহিদা ও বাড়তি উৎপাদন খরচকে দায়ী করা হচ্ছে। চলতি ডিসেম্বরে সপ্তম মাসের মতো এ সংকোচন বহাল রয়েছে। খবর ইউরো নিউজ।

হামবুর্গ কমার্শিয়াল ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক ঋণমান সংস্থা এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল সম্প্রতি ইউরোজোনের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে।

নতুন অর্ডার, কর্মসংস্থান, সরবরাহের সময় এবং মজুদসহ সেবা ও উৎপাদন খাতজুড়ে বিভিন্ন সূচকের দিকে দৃষ্টি দিয়েছে পাঁচটি পিএমআই (পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স)।

দুটি খাত মিলে (কম্পোজিট) পিএমআই উৎপাদন সূচক ডিসেম্বরের শুরুতে ৪৭-এ ছিল। নভেম্বরে ছিল ৪৭ দশমিক ৬ এবং অক্টোবরে ৪৬ দশমিক ৫। কম্পোজিট সূচক সাত মাস ধরে ৫০-এর নিচে। সূচকের এ পরিস্থিতিকে ইউরোজোনের অর্থনীতিতে সংকোচনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইউরোজোন পিএমআইটি জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রিয়া, আয়ারল্যান্ড ও গ্রিসভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সমীক্ষার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। হামবুর্গ কমার্শিয়াল ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. সাইরাস দে লা রুবিয়া বলেন, ‘‌পরিসংখ্যানগুলোয় একটি হতাশার চিত্র দেখা যাচ্ছে। ইউরোজোনের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের কোনো লক্ষণ নেই। উল্টো টানা ছয় মাস ধরে সংকুচিত হচ্ছে। তৃতীয় প্রান্তিক থেকে ইউরোজোন মন্দার কবলে পড়তে পারে।’

শুধু ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে ডিসেম্বরে সূচক কমে ৪৪ দশমিক ১-এ নেমে এসেছে। নভেম্বরে এটা ছিল ৪৪ দশমিক ৬ এবং অক্টোবরে ছিল ৪৩ দশমিক ১।

পাঁচটি ক্যাটাগরির ভিত্তিতে তৈরি পিএমআই অ্যাক্টিভিটি ইনডেক্সের দিকে তাকালে সংখ্যাটি ডিসেম্বরে ৪৮ দশমিক ১-এ নেমে এসেছে। এটা নভেম্বরে ছিল ৪৮ দশমিক ৭।

কম চাহিদা কোম্পানিগুলোর জন্য একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক কোম্পানি উৎপাদন খাতে কর্মী ছাঁটাই করছে। এর সঙ্গে রয়েছে কর্মীদের বেতন কমিয়ে দেয়া। চাকরি হারানোর হার ২০১২ সালের পর (মহামারীর মাসগুলো বাদে) থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

সেবা খাতে ডিসেম্বরে কর্মী সংখ্যা সামান্য বেশি ছিল। তবে নতুন নিয়োগের হার কমেছে। ডিসেম্বরে ম্যানুফ্যাকচারিং ও সার্ভিস উভয় খাতে উৎপাদন খরচ বেড়েছে।