চলতি বছরের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি-আগস্ট) চীনে চাল আমদানি দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। এ সময় দেশটি ৩২ লাখ টন চাল আমদানি করে। গত বছরের একই সময় আমদানির পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ ২০ হাজার টন। কিন্তু সে তুলনায় রফতানি ছিল অপরিবর্তিত। আট মাসে চাল রফতানি দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৯০ হাজার টনে। চীনের শুল্ক বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে।
চীন বিশ্বের শীর্ষ চাল উৎপাদক। রফতানিতেও বিশ্ববাজারে দেশটির বড় হিস্যা রয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, আমদানিতে এমন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকলে শীর্ষ উৎপাদক দেশটি নিট আমদানিকারকে পরিণত হবে।
পণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামে লাগাম টেনে ধরতে রাষ্ট্রীয় মজুদ থেকে স্থানীয় বাজারে চাল বিক্রি করছে চীন। ফলে ক্রমবর্ধমান চাহিদার মধ্যেই কমছে মজুদ। এ কারণে আমদানি বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে দেশটি। চীনের শুল্ক বিভাগের উদ্ধৃতি দিয়ে মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) জানায়, গত বছর ভারত থেকে চীনের চাল আমদানির হার ছিল ১ শতাংশেরও কম। কিন্তু চলতি বছরের এখন পর্যন্ত শীর্ষ রফতানিকারক দেশটি থেকে আমদানি বেড়ে ২৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এর মাধ্যমে চীনের বাজারে নেতৃস্থানীয় চাল সরবরাহকারীর মুকুট অর্জন করেছে ভারত। কম দাম এবং গুণগত মানসম্পন্ন হওয়ায় দেশটিতে ভারতীয় চালের কদর বাড়ছে। চাহিদার ২২ শতাংশ সরবরাহ করে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভিয়েতনাম। এছাড়া ২০ শতাংশ পাকিস্তান এবং ১৮ শতাংশ মিয়ানমার সরবরাহ করেছে। চীনের বাজারে ভারতের হিস্যা অনস্বীকার্যভাবে লক্ষণীয় মাত্রায় বেড়েছে। এক্ষেত্রে চাহিদায় উল্লম্ফন ভূমিকা রেখেছে। ইউএসডিএর প্রতিবেদন বলছে, বছরের আট মাসে ভারত থেকে আমদানীকৃত চালের ৯৭ শতাংশই ভাঙা চাল, যা মোট আমদানির অর্ধেক।
ভারতের শুল্ক বিভাগের তথ্য বলছে, আগস্টে ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৮১ টন চালের চালান চীনে পাঠানো হয়েছে। এ চালান ওই মাসের মধ্যেই চীনের বন্দরে পৌঁছতে সক্ষম হয়নি। সুতরাং যুক্তিসংগতভাবে বলা যায়, বছর শেষ হওয়ার আগে মোট রফতানির পরিমাণ রেকর্ড করা সম্ভব হবে না। প্রতিষ্ঠানটি আরো জানায়, চীনের বাজার এখন পর্যন্ত ভারতীয় ভাঙা চালের চাহিদা কমে যাওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা দেয়নি। সে হিসেবে বলা যায়, বছরের বাকি মাসগুলোতেও চীনে চাল রফতানিতে ঊর্ধ্বমুখিতা অব্যাহত থাকবে।
পশুখাদ্যে চাহিদাই মূলত ভাঙা চালের চাহিদায় জ্বালানি জুগিয়েছে। কারণ ভুট্টাসহ পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহূত অন্যান্য শস্যের দাম বড় পরিসরে বেড়েছে।
দামের তারতম্যের বিষয়ে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্ল্যাটস জানায়, মে মাসে উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় প্রতি টন ভুট্টার দাম ৩৪৯ ডলারে পৌঁছে। এ সময় ফ্রি অন বোর্ড (এফওবি) চুক্তিতে প্রতি টন ভারতীয় ১০০ শতাংশ ভাঙা সাদা চাল বিক্রি হয়েছে ২৭০ ডলারে। অক্টোবরে দামের তারতম্য টনপ্রতি প্রায় ৫০ ডলার কমে আসে। এর পরও ক্রেতাদের সুবিধা দিচ্ছে চাল।
চীনের শুল্ক বিভাগ বলছে, গত ও চলতি বছরের আট মাসে চীন ১৬ লাখ ৯০ হাজার টন চাল রফতানি করে। এক বছরের ব্যবধানে রফতানি অপরিবর্তিত রয়েছে। ২০১৯ সালের আগস্টের তুলনায় রফতানির ১৯ শতাংশ কমেছে। সূত্র: এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্ল্যান্টস










