চলতি বছর বিশ্ববাজারে কমতে পারে ইস্পাতের চাহিদা। চীনের অবকাঠামো নির্মাণ খাতে মন্দাভাব চাহিদাকে দুর্বল করে তুলছে। অন্যদিকে দেশটিতে অতিরিক্ত সরবরাহে ধাতুটির বাজারদরও নিম্নমুখী হয়ে পড়তে পারে। খবর দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন।
এদিকে মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফিচ সলিউশনের বিএমআই ইউনিট জানায়, বিশ্ববাজারে কমলেও এশিয়ার বাজারে ইস্পাতের চাহিদায় কিছুটা প্রবৃদ্ধি দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে প্রধান প্রভাবকের ভূমিকা পালন করবে ভারত।
বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস জানায়, চীনে ইস্পাত সরবরাহ বিপুল পরিমাণে বাড়ছে। আগামী দিনগুলোয় এ ধারা অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে দেশটির আবাসন খাত ঘুরে দাঁড়াতে আরো সময় লাগতে পারে। এ খাতে কভিড-১৯-পরবর্তী পুনরুদ্ধারের গতি খুবই ধীর। ফলে ইস্পাতের চাহিদা ৫ শতাংশ কমার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে ধাতুটির উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা কমানোর পদক্ষেপও নিতে পারে বেইজিং।
ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের দেয়া তথ্য বলছে, চলতি বছরের এপ্রিলে চীনে ইস্পাত উৎপাদন ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। তবে জানুয়ারি-জুন পর্যন্ত উৎপাদন বেড়েছে ৪ দশমিক ১ শতাংশ।
বিএমআই জানায়, বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দেশগুলো খারাপ সময় পার করছে। এসব দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ। এ কারণে বছরজুড়ে ইস্পাতের চাহিদা নিম্নমুখীই থাকবে। অবকাঠামো খাতে মন্থরগতির কারণে চীনে চলতি বছরের প্রথমার্ধে চাহিদা কমেছে। তবে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে চাহিদা কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এ বছরের জন্য ইস্পাতের বৈশ্বিক মূল্য পূর্বাভাসও কমিয়েছে বিএমআই।
গবেষণা ইউনিটটি জানায়, চাহিদায় নিম্নমুখী প্রবণতায় এ বছর ইস্পাতের বৈশ্বিক গড় দাম টনপ্রতি ৭৩০ ডলারে নামতে পারে। এর আগের পূর্বাভাসে ৮২৫ ডলারের পূর্বাভাস দিয়েছিল ইউনিটটি।
চলতি বছরের শুরু থেকে ৬ জুন পর্যন্ত লম্বা ও সমান্তরাল ইস্পাত পণ্যের গড় দাম দাঁড়িয়েছে টনপ্রতি ৭৫১ ডলারে। এসব পণ্যের বর্তমান গড় দাম ৭১৩ ডলার। এক বছরের ব্যবধানে ইস্পাত পণ্যের দাম কমেছে ১৫-২০ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, চলতি বছরের বাকি মাসগুলোয়ও বিশ্ব অর্থনীতিতে শ্লথগতি বজায় থাকবে। তবে চীনের অর্থনীতি কভিড-১৯-সংক্রান্ত সব ধরনের বিধিনিষেধ কাটিয়ে ওঠায় বৈশ্বিক ইস্পাতের চাহিদা কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
থিংক ট্যাংক আইএনজির অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা জানান, চীনে ইস্পাতের চাহিদার অর্ধেকই আসে অবকাঠামো নির্মাণ খাত থেকে। খাতটিতে প্রবৃদ্ধির গতি আশঙ্কার চেয়েও ধীর হয়ে পড়েছে।
আইএনজি থিংক আরো জানায়, সাধারণত মার্চ ও এপ্রিলে চীনে ইস্পাত উৎপাদন বেড়ে যায়। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ে ব্যবহারও। তবে অবকাঠামো নির্মাণ খাতে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এ বছরের একই সময় তেমনটা ঘটেনি।
বিএমআই জানায়, চলতি অর্থবছরে রেল, সড়ক ও বিমানবন্দরসহ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে বহুমুখী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয়ার পরিকল্পনা করছে ভারত। ফলে দেশটিতে ইস্পাতে ব্যবহার বাড়বে। তবে দেশটি স্থানীয় উৎপাদন দিয়ে চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হবে।
বিএমআই আরো জানায়, চলতি বছরও রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে। এতে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি চাপের মুখেই থাকবে। বিশ্ববাজারে ধাতুটির দাম কমে যাওয়ার ক্ষেত্রে যুদ্ধও বড় ভূমিকা পালন করছে।










