বিদায়ী বছর রাশিয়া থেকে মোট ৬ কোটি ৮০ লাখ টন কয়লা আমদানি করেছে চীন। এক বছরের ব্যবধানে আমদানি ২০ শতাংশ বেড়েছে। পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য কমিয়ে দেয়ায় দেশটি এশিয়ায় বাজার সম্প্রসারণ করছে। এক্ষেত্রে চীন ও ভারতকে বেশি প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। বিষয়টি আমদানি বৃদ্ধিতে রসদ জুগিয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
চীনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস এক প্রতিবেদনে জানায়, বছরওয়ারি আমদানি বাড়লেও ডিসেম্বরে কমেছে। এর প্রধান কারণ লজিস্টিকস সংক্রান্ত জটিলতা ও রাশিয়ায় বৈরী আবহাওয়া। অন্যদিকে চীনে ঊর্ধ্বমুখী করোনা সংক্রমণও আমদানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
ডিসেম্বরে দেশটি রাশিয়া থেকে ৬৮ লাখ ৯০ হাজার টন কয়লা আমদানি করেছে। নভেম্বরে আমদানির পরিমাণ ছিল ৭১ লাখ ৬০ হাজার টন। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় পরিবহনসংক্রান্ত জটিলতায় রাশিয়ার কয়লা রফতানিতে বিঘ্ন ঘটেছে। এছাড়া তীব্র ঠাণ্ডার কারণে দেশটির বন্দরগুলোয় পণ্য বোঝাই ও খালাস কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
রাশিয়া চীনের বাজারে আকর্ষণীয় মূল্যছাড়ে কয়লা সরবরাহ করছে। এর পরও গত মাস এবং পুরো বছর ইন্দোনেশিয়াই ছিল চীনের শীর্ষ সরবরাহকারী। কারণ দেশটির ইউটিলিটি প্রতিষ্ঠানগুলোয় ইন্দোনেশিয়ার নিম্ন-সালফারবিশিষ্ট তাপীয় কয়লার চাহিদা বেশি।
জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস জানায়, ডিসেম্বরে ইন্দোনেশিয়া থেকে ১ কোটি ৭৫ লাখ ৩০ হাজার টন কয়লা আমদানি হয়েছে। নভেম্বরে আমদানির পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৪০ হাজার টন।
গত বছর চীন সব মিলিয়ে ১৭ কোটি ৭ লাখ ১০ হাজার টন কয়লা আমদানি করেছে। ২০২১ সালের তুলনায় আমদানি কমেছে ১২ দশমিক ৬ শতাংশ। ডিসেম্বরে দেশটি অস্ট্রেলিয়া থেকে কোনো কয়লা আমদানি করেনি।
বেইজিং এরই মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে অস্ট্রেলিয়া থেকে কয়লা আমদানির অনুমতি দিয়েছে। ২০২০ সালে অনানুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞার পর প্রথমবারের মতো দেশটি থেকে আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে দেশটি থেকে কয়লার প্রথম চালান আসতে পারে।
এদিকে ইস্পাত উৎপাদনের জন্য চীন ডিসেম্বরে মঙ্গোলিয়া থেকে ৪৯ লাখ ৯০ হাজার টন কয়লা আমদানি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি ৯ লাখ ৪৭ হাজার ৯৯৩ টন বেড়েছে। গত বছর দেশটি থেকে মোট আমদানি হয় ৩ কোটি ১১ লাখ ৫০ হাজার টন ধাতব কয়লা। যা ২০২১ সালের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি।










