মালয়েশিয়ায় পাম অয়েলের মজুদ গত মাসে ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেড়েছে। মজুদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩ লাখ ২০ হাজার টনে। সম্প্রতি মালয়েশিয়ান পাম অয়েল বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
শিল্প নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানটি বলছে, গত মাসে মালয়েশিয়ায় পাম অয়েল উৎপাদন এর আগের মাসের তুলনায় ২ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেড়েছে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৭০ হাজার টনে। পাম অয়েল উৎপাদনে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ দেশ মালয়েশিয়া। দেশটিতে গত মাসসহ টানা চতুর্থ মাসের মতো উৎপাদন বেড়েছে।
অন্যদিকে রফতানি এক মাসের ব্যবধানে ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়েছে। রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ২০ হাজার টনে। এ সময় দেশটির শীর্ষ ক্রেতা ছিল ভারত। দেশটি দিপাবলি উৎসবকে কেন্দ্র করে মালয়েশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ পাম অয়েল আমদানি করছে।
গত মাসে ভারতে পাম অয়েল আমদানি বেড়ে এক বছরের সর্বোচ্চে উন্নীত হয়েছে। সয়াবিন ও সূর্যমুখীসহ প্রতিদ্বন্দ্বী ভোজ্যতেলগুলোর বিপরীতে পাম অয়েলে ব্যাপক মূল্যছাড় আমদানি বাড়াতে সহায়তা করছে।
এর আগে রয়টার্সের এক সমীক্ষায় বলা হয়, গত মাসে পাম অয়েলের মজুদ আগের মাসের তুলনায় ৮ শতাংশ বেড়েছে। মজুদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ ৭০ হাজার টনে, যা ২০১৯ সালের অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ।
ব্যবসায়ীরা জানান, ইন্দোনেশিয়ার রফতানি নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়া, ঊর্ধ্বমুখী রফতানি, দুর্বল চাহিদাসহ নানা কারণে সম্প্রতি মালয়েশিয়ান পাম অয়েলের দাম রেকর্ড উচ্চতা থেকে কমে অর্ধেকে নেমে এসেছিল। কিন্তু ভারত আমদানি বাড়ানোয় বাজার আদর্শটির দাম আবারো গতি ফিরে পাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
তবে ভারত আমদানি বাড়ালেও অন্য শীর্ষ আমদানিকারক দেশ চীনে পরিস্থিতি একদমই উল্টো। দেশটি লম্বা সময় ধরেই করোনা মহামারীর সঙ্গে যুদ্ধ করছে। সম্প্রতি ভাইরাসের সংক্রমণ আবারো বেড়ে যাওয়ায় কঠোর লকডাউনসহ নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এ কারণে দেশটিতে পাম অয়েল ব্যবহার কমেছে। ফলে কমেছে আমদানিও।
বিশ্লেষকরা জানান, নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়ার পর থেকেই পাম অয়েল রফতানি বাড়ানোর জোর প্রচেষ্টা চালচ্ছে শীর্ষ দেশ ইন্দোনেশিয়া। দেশটি ডিএমও নীতিমালায় পরিবর্তন ও ক্রেতা দেশগুলোকে শুল্ক সুবিধা দিচ্ছে। এ কারণে রফতানি বাজারে মালয়েশিয়ান পাম অয়েলের চাহিদা কিছুটা কমে গিয়েছে। বিষয়টিও পাম অয়েলের মজুদ বাড়াতে ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।










