বিশ্বজুড়ে ময়দা বাণিজ্য পাঁচ বছরে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। ২০২৫-২৬ বিপণন বছরে বিভিন্ন দেশে মোট ১ কোটি ৫১ লাখ টন ময়দা রফতানি হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইনস কাউন্সিলের (আইজিসি) গত শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর ওয়ার্ল্ড-গ্রেইন ডটকম।

সংস্থাটি জানিয়েছে, গত ৩০ জুন শেষ হওয়া বিপণন বছরে বাণিজ্য হ্রাসের এ চিত্র দেখা গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ময়দার বাণিজ্যের পরিমাণ মার্চের পূর্বাভাসের চেয়ে ৯ লাখ টন কম হয়েছে। ইরাক ও সুদানের মতো বড় আমদানিকারক দেশগুলোর ময়দা কেনা কমে যাওয়ায় মূলত এ পতন হয়েছে বলে জানিয়েছে আইজিসি।

সংস্থাটি বলেছে, ইরাক ও সুদান নিজেদের ময়দা উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে দেশগুলো ময়দার পরিবর্তে গম আমদানির দিকে বেশি ঝুঁকেছে।

ইরাকে ময়দা আমদানি প্রায় ৮০ শতাংশ কমে তিন লাখ টনে নেমেছে। ২১ বছরের মধ্যে দেশটিতে এটি সর্বনিম্ন আমদানি। এর প্রভাব পড়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ময়দার বাজারে। অঞ্চলটিতে টানা তৃতীয় বছরের মতো ময়দা আমদানি কমেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা ১৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ১৮ লাখ টনে নেমেছে।

সাব-সাহারান আফ্রিকায়ও ময়দার আমদানি কমেছে। সুদানে আমদানি কমার পাশাপাশি ইথিওপিয়ায় চাহিদা কমে গেছে। এতে এ অঞ্চলের আমদানি ৩৩ শতাংশ কমে ২২ লাখ টনে নেমেছে। আগের মৌসুমে আমদানি ছিল আট বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ময়দা আমদানিকারক আফগানিস্তানেও আমদানি কমেছে। দেশটি ২০২৫-২৬ বিপণন বছরে ৩৮ লাখ ২০ হাজার টন ময়দা আমদানি করেছে, যা আগের বছরের চেয়ে ২৫ হাজার টন কম। উজবেকিস্তানের আমদানিও প্রায় দুই লাখ টন কমেছে।

রফতানিকারক দেশগুলোর মধ্যেও বড় পতন দেখা গেছে। মিসরের ময়দা রফতানি ১৯ লাখ ৪০ হাজার থেকে ৬ লাখ ৩৫ হাজার টনে নেমেছে। দেশটির বড় ক্রেতা সুদান ময়দার বদলে রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে গম আমদানি বাড়িয়েছে।

বিশ্বের শীর্ষ ময়দা রফতানিকারক তুরস্কেও টানা দ্বিতীয় বছরের মতো কমেছে রফতানি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটি ৩৪ লাখ টন ময়দা রফতানি করেছে, যা ২০১২-১৩-এর পর সর্বনিম্ন। তবে আর্জেন্টিনা ও কাজাখস্তানের রফতানি বেড়েছে। আর্জেন্টিনার রফতানি ৭ লাখ ৪৮ হাজার এবং কাজাখস্তানের ২৯ লাখ ৫০ হাজার টনে পৌঁছেছে।

আইজিসি জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ বিপণন বছরে বিশ্বে ময়দার বাণিজ্য সামান্য বেড়ে ১ কোটি ৫৩ লাখ টন হতে পারে। তবে এটি মার্চের পূর্বাভাসের চেয়ে নয় লাখ টন কম। তুরস্ক ও মিসরের রফতানি বাড়তে পারে। ভারতেও রফতানি নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ায় বিদেশে ময়দা সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।