রেকর্ড উচ্চ সুদহার অপরিবর্তিত রেখেছে ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক (ইসিবি)। গতকাল এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কয়েক মাস ধরে উচ্চ সুদহার অব্যাহত থাকায় মন্দাদশা দেখা দিয়েছে অর্থনীতিতে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে কবে নাগাদ ঋণের উচ্চ সুদহার প্রত্যাহার হবে? খবর খালিজ টাইমস।

মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড), ব্যাংক অব ইংল্যান্ড (বিওই) ও সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকও একই নীতিতে হাঁটছে। তবে এরই মধ্যে আগামী বছর নাগাদ সুদহার কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছে ফেড। ইসিবিও এসব ব্যাংকের নীতি অনুসরণ করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইসিবি জানিয়েছে, সুদহার ৪ শতাংশ রাখা হচ্ছে। না হলে অল্প সময়ের মধ্যে আবারো মূল্যস্ফীতি বেড়ে যেতে পারে।

কভিড-১৯ মহামারী ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় সুদহার বাড়িয়ে দিয়েছে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো। লম্বা সময় ধরে উচ্চ সুদহার বহাল রাখায় অর্থনীতিতে মন্থরতা দেখা দিয়েছে।

ইউরো মুদ্রা ব্যবহারকারী দেশগুলোয় ২০২২ সালের অক্টোবরে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৬ শতাংশে উঠেছিল। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২০ দেশে মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কমেছে। ইসিবির ২ শতাংশের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ধরে রাখার লক্ষ্যমাত্রার বেশ কাছাকাছি চলে এসেছে এসব দেশ। গত মাসে ইউরোপের ২০টি দেশে মূল্যস্ফীতি ২ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে।

মূল্যস্ফীতি কমে যাওয়ার এ তথ্য প্রকাশের পর পরই বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, নতুন বছর থেকে ইসিবি সুদহার কমিয়ে আনবে। পূর্বাভাসে বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘নির্দিষ্ট করে সময় বলা না গেলেও আগামী মার্চ-সেপ্টেম্বরের মধ্যে সুদহার কমানো হতে পারে।’ ইসিবি বর্তমানে রেপো রেট বা নীতি সুদহার সর্বকালের সর্বোচ্চ ৪ শতাংশে বহাল রেখেছে।

শিগগিরই ইসিবি প্রেসিডেন্ট ক্রিস্তিন লাগার্দ এক সংবাদ সম্মেলনে অর্থনীতি সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করবেন। বক্তব্যে সুদহার কমানোর বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত দেবেন কিনা তা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন বিশ্লেষকরা।

রেকর্ড সুদহার বৃদ্ধির পর মূল্যস্ফীতি কমলেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে গেছে। কারণ নতুন অফিস, কারখানার সরঞ্জাম ও আবাসন ক্রয় খাতে ঋণের খরচ বেড়েছে। তাই এসব খাতসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। ইউরোজোনে জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দশমিক ১ শতাংশ কমেছে।

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বসবাসকারী একজন মার্কিন ফটোগ্রাফার স্টিভেন একেরোভিচ বলেছেন, ‘প্যারিসে দ্রুত খরচ বাড়ছে। ভাড়া, খাবার, পোশাক সবকিছু। তাই এখনই সাবধান হতে হবে।’

পিকটেট ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের সামষ্টিক অর্থনীতির গবেষণার প্রধান ফ্রেডেরিক ডুক্রোজেট বলেছেন, ‘ইউরোপের মূল্যস্ফীতি কমতির দিকে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থেমে গেছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে উৎপাদন দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। এর অর্থ ইসিবি প্রথম শীর্ষস্থানীয় কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংক হতে যাচ্ছে, যেটি সুদহার কমানোর ঘোষণা দিতে পারে।’

তবে সুদহার কমানোর সময় নিয়ে ভিন্ন মত রয়েছে। ডয়েচে ব্যাংকের পূর্বাভাস হচ্ছে মার্চে সুদহার কমানোর সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তবে সুইস মাল্টিন্যাশনাল প্রাইভেট ব্যাংক পিকটেট মনে করছে জুনে সুদহার কমানো হবে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সাবেক প্রধান ও ইসিবি প্রেসিডেন্ট ক্রিস্তিন লাগার্দ অবশ্য এরই মধ্যে বলেছেন, ‘অর্থনীতির সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাংক সিদ্ধান্ত নেবে।’