দেশে বিভিন্ন খাতের হালনাগাদ তথ্য পাওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে ব্যবসা, বিনিয়োগ বা আর্থিক কোনো সিদ্ধান্ত নিতেও সমস্যায় পড়েন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বিদেশী বিনিয়োগকারীরাও সহজে সঠিক তথ্য চান। এখানে বাণিজ্যের পরিবেশ এবং সম্ভাবনা নিয়েও তারা জানতে চান। আমাদের পণ্যের ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোও এখানকার নানা তথ্য জানতে চান। তাই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে উপাত্ত সহজলভ্য করতে হবে। যাতে ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই সহজে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এতে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ বাড়বে। সেই প্রেক্ষাপট বিবেচনায় পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই) সূচক কাজ করছে। সুনির্দিষ্ট ও সহজে বোধগম্য কিছু তথ্যের ভিত্তিতে সূচকটি তৈরি ও প্রকাশ করা হবে। গতকাল রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

পিএমআই সূচকের মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন-সহযোগী ও বিনিয়োগকারীরা উপকৃত হবেন জানিয়ে পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান এম মাশরুর রিয়াজ বলেন, ‘‌আমরা স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পথে রয়েছি। এছাড়া ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হতে চাইলে দেশী-বিদেশী বিপুল বিনিয়োগ দরকার। কিন্তু বিনিয়োগের আগে ব্যবসা-বাণিজ্যের হালনাগাদ তথ্য জানতে চান বিনিয়োগকারীরা। এখানে ব্যবসা করলে খরচ কেমন হবে, লাভ কেমন হবে, পরিবেশ কেমন, অবকাঠামো তৈরিতে কতটুকু সময় লাগবে ইত্যাদি তথ্য তারা জানতে চান। ফলে বিশ্বাসযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্য না পেলে তারা কোনো সম্ভাবনাকেই সত্য বলে মেনে নেন না। এক্ষেত্রে পিএমআই সূচক বিনিয়োগকারী ও সরকার—উভয়ের জন্যই সহায়ক হবে। পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো সহজে নির্ণয় এবং সেটি মোকাবেলায় লক্ষ্য নির্ধারণ করা যাবে দ্রুত সময়ে।’

এমসিসিআই ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ যৌথভাবে এ সূচক প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে সহযোগিতা করছে যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কার্যালয় (এফসিডিও)।