চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) শিল্প ধাতুর বাজার ছিল নিম্নমুখী। প্রতিকূল বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে শিগগিরই এসব ধাতুর বাজারে টেকসই পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা খুবই কম। সম্প্রতি এমনটা জানিয়েছে বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস। 

ওয়াল স্ট্রিট ব্যাংকটি এক নোটে জানায়, ব্যষ্টিক অর্থনীতিতে বড় পরিসরে চাহিদা না বাড়লে বাজার পুনরুদ্ধারের কোনো সম্ভবনা নেই। আগামী দিনগুলোয় শিল্প ধাতুর দাম বাড়ার গতি শিগগিরই স্তিমিত হয়ে পড়বে। 

শিল্প ধাতুর বাজারে চলমান সংকটের পেছনে দুটি বিষয়কে দায়ী করছে গোল্ডম্যান স্যাকস। এর মধ্যে একটি হলো শ্রমবাজারের অবস্থা ভালো হওয়া সত্ত্বেও উৎপাদন কমে যাওয়া। অন্যটি হলো সেবা খাত, যা ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির মধ্যেই নীতিগত শিথিলতার সম্ভাবনাকে সীমিত করছে।

গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষকরা জানান, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে বেশকিছু উদ্যোগ নেয়ার কথা ছিল চীনের। কিন্তু বিষয়টি বারবার অনিশ্চয়তার মুখে পড়ায় চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে এসে বড় ধরনের জটিলতার সম্মুখীন হয়েছে শিল্প ধাতুর বাজার। 

চীন বিশ্বের শীর্ষ ধাতব পণ্য ব্যবহারকারী। দেশটিতে ধাতব পণ্যের চাহিদা পুনরুদ্ধারের গতি অত্যন্ত ধীর। তার ওপর বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি নিয়েও রয়েছে উদ্বেগ। ফলে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে তামার দাম ৭ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। 

অর্থনীতিতে ধীর পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় গতি ফেরাতে ঋণের সুদহার কমায় চীন। কিন্তু প্রত্যাশিত ও পর্যাপ্ত আর্থিক পদক্ষেপের অভাবে উদ্যোগটি ধাতব পণ্যের দাম বাড়াতে ব্যর্থ হয়। স্বল্প সময়ের মধ্যে চীনে ধাতব পণ্যের চাহিদা বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলেও জানায় গোল্ডম্যান স্যাকস। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি শিল্প ধাতুর জন্য অনেকটাই চ্যালেঞ্জিং। তবে এর পরও তামানির্ভর অর্থনীতিগুলোয় উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে এলএমইতে নিকট ভবিষ্যতে অ্যালুমিনিয়ামের দাম নিম্নমুখী চাপের মুখে থাকতে পারে। প্রতি টন সর্বোচ্চ ২ হাজার ডলারে লেনদেন হতে পারে। চাহিদা বাড়ার আগ পর্যন্ত মূল্য পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা নেই।