সিঙ্গাপুরের মূল্যস্ফীতি নভেম্বরে কিছুটা ধীরগতিতে কমেছে। ফলে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক আসন্ন জানুয়ারিতে সুদহার অপরিবর্তিত রাখার পরিকল্পনা থেকে সরে  আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বরং দেশটির অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার জন্য তা পুনরায় বাড়ানো হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। খবর ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে।

অফিশিয়াল তথ্যানুযায়ী, মূল্যস্ফীতি এক বছর আগের তুলনায় ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। এটি ব্লুমবার্গ আয়োজিত সমীক্ষায় অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসের সঙ্গে মিলেছে। তারা অক্টোবরে মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ৩ শতাংশ থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন।

মানিটারি অথরিটি অব সিঙ্গাপুর (এমএএস) ও মিনিস্ট্রি অব ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, খুচরা এবং অন্যান্য পণ্য, খাদ্য, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নিম্নমুখী হয়েছে। মূল মূল্যস্ফীতি পরিবহন ও বাসস্থান খরচ বাদ দিয়ে গণনা করা হয়। আর্থিক নীতি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে তারা এ পরিমাপ করেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী আর্থিক সিদ্ধান্ত জানুয়ারির শেষের দিকে নেয়া হবে।

এমএএস মুদ্রা বিনিময় হারকে তার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। সংস্থাটি ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত কঠোর মুদ্রানীতি অনুসরণ করেছে। এ বছর দুবার তার নীতি অপরিবর্তিত রেখেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংককে এখনো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি মূল্য স্থিতিশীলতার ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। রফতানি, উৎপাদন ও ইলেকট্রনিকস খাতে পারসেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও চীনের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে মূল মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব পড়েছে।

সিঙ্গাপুর সরকার এর আগে চলতি বছরের জন্য  দেশটির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসকে কমিয়ে ১ শতাংশে এনেছিল। ২০২৪ সালে তা ১-৩ শতাংশের মধ্যে থাকবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে এমএএস আগামী মাসে শুরু হওয়া প্রান্তিকে নতুন মুদ্রানীতি প্রণয়ন করতে পারে।