খাদ্যশস্যের বিশ্ববাজার টালমাটাল। অনেক দেশই এখনো করোনার ধাক্কা পুরোপুরি সামলে উঠতে পারেনি। তার ওপর নতুন করে নভেল করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ডেল্টার প্রাদুর্ভাব বাজার পরিস্থিতিকে আরো অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। কনটেইনার সংকট, উচ্চমাত্রার জাহাজীকরণ ব্যয়, বৈরী আবহাওয়াসহ নানা প্রতিবন্ধকতা খাদ্যপণ্যের সরবরাহ চক্রকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। হু হু করে বাড়ছে দাম। তবে এমন পরিস্থিতির মধ্যেও আশার বার্তা দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইন কাউন্সিল (আইজিসি)।
প্রতিষ্ঠানটির সম্প্রতি প্রকাশিত মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধির পূর্বাভাস মিলেছে। শুধু উৎপাদন নয়, বরং বার্ষিক মজুদও থাকবে ঊর্ধ্বমুখী। ভুট্টা ও সরগাম (এক ধরনের খাদ্যশস্য) উৎপাদন বৃদ্ধিতে মূল ভূমিকা রাখবে।
আইজিসি চলতি মাসে খাদ্যশস্যের বাজার নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে আগস্টের তুলনায় খাদ্যশস্য উৎপাদন পূর্বাভাস ৫ শতাংশ বাড়ানো হয়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ মৌসুমে মোট উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে ২২৮ কোটি ৯০ লাখ টনে। গত মৌসুমের তুলনায় উৎপাদন ৩ শতাংশ বাড়তে পারে।
আইজিসি জানায়, উৎপাদন পূর্বাভাস বৃদ্ধির অন্যতম কারণ ভুট্টা। কৃষিপণ্যটির উৎপাদন অন্যান্য পণ্যের তুলনায় সর্বাধিক বাড়তে পারে। ২০২০-২১ মৌসুমে ১১২ কোটি ৭০ লাখ টন ভুট্টা উৎপাদন হলেও ২০২১-২২ মৌসুমে উৎপাদন বেড়ে ১২০ কোটি ৯০ লাখ টনে উন্নীত হতে পারে।
এদিকে খাদ্যশস্যের উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা দিলেও বাণিজ্য গত বছরের তুলনায় নিম্নমুখী থাকতে পারে। আগস্টে খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক বাণিজ্য ৪১ কোটি ৫০ লাখ টনে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দিয়েছিল আইজিসি। নতুন পূর্বাভাসে তা বাড়িয়ে ৪১ কোটি ৬০ লাখ টনে নিয়ে আসা হয়েছে। নতুন পূর্বাভাসে বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হলেও তা থাকবে গত মৌসুমের বাণিজ্যসীমার নিচে। বাণিজ্য সংকটে বড় ভূমিকা রাখছে এশিয়া। এ অঞ্চলের আমদানিকারকরা গমসহ অন্যান্য খাদ্যশস্যের সরবরাহ সংকটে ভুগছেন। এছাড়া লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে খরাসহ তীব্র দাবদাহ শস্য খাতের প্রতিবন্ধকতাকে প্রকট করে তুলেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানা হারিকেন আইডাও বাণিজ্য ঘাটতিতে বড় ভূমিকা রাখছে। আইজিসি জানায়, ভুট্টা ও যবের জাহাজীকরণ কমে যাওয়া বাণিজ্য হ্রাসে অনুঘটকের কাজ করছে।
এদিকে নতুন পূর্বাভাসে খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক ব্যবহারের পরিমাণ অপরিবর্তিত রেখেছে আইজিসি। তবে এটি ২০২০-২১ মৌসুমের তুলনায় ৩ শতাংশ বাড়বে। ব্যবহারের পরিমাণ দাঁড়াবে ২২৮ কোটি ৮০ লাখ টনে। উৎপাদনের মতো ব্যবহারেও প্রভাব রেখেছে ভুট্টা।
আইজিসির পূর্বাভাস বলছে, ২০২১-২২ মৌসুম শেষে খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক মজুদ আগের পূর্বাভাসের তুলনায় এক কোটি টন বেড়ে ৫৯ কোটি ৯০ লাখ টনে পৌঁছবে। মজুদ বৃদ্ধিতেও প্রধান ভূমিকা রাখবে ভুট্টা।
সর্বশেষ প্রতিবেদনে চাল ছাড়া সব খাদ্যশস্যের ব্যবহার অপরিবর্তিত রেখেছে আইজিসি। আগস্টে প্রতিষ্ঠানটি চালের বৈশ্বিক ব্যবহার ৫১ কোটি ১০ লাখ টনে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দিলেও চলতি মাসে পূর্বাভাস কমিয়ে ৫০ কোটি ৯০ লাখ টনে নামিয়ে এনেছে। তবে উৎপাদন পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রেখেছে।










