বৈশ্বিক মন্দা পরিস্থিতি সত্ত্বেও বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির (ইভি) চাহিদা স্থিতিশীল থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রিভিয়ান অটোমোটিভ। ব্যাংকঋণে উচ্চ সুদহারের কথা মাথায় রেখেই প্রতিষ্ঠানটির অর্থ প্রধান ক্লেয়ার ম্যাকডোনাফ বলেছেন, তাদের পিকআপ ও স্পোর্ট-ইউটিলিটি গাড়িগুলোর (এসইউভি) চাহিদা বছরজুড়ে স্থিতিশীল থাকবে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, মন্দা পরিস্থিতির মধ্যেও ইভির বাজার চাহিদা ভালো থাকায় এ খাতের শেয়ারবাজারও চাঙ্গা। বৃহস্পতিবার বিকালে রিভিয়ানের শেয়ারদর ৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ৩৩।
ডয়চে ব্যাংক অটো কনফারেন্সে বৃহস্পতিবার চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার ক্লেয়ার ম্যাকডোনাফ বলেছেন, খরচ কমাতে রিভিয়ান নিজস্ব ড্রাইভ ইউনিটে উৎপাদন বাড়াবে। ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি এর আগে আরওয়ানটি পিকআপ ট্রাক ও আরওয়ানএস স্পোর্ট ইউটিলিটি ভেহিকল (এসইউভি) তৈরি করেছে। বর্তমানে খরচ ও সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতা কমাতে নিজস্ব ড্রাইভ ইউনিট তৈরিতে কাজ করছে। ম্যাকডোনাফ বলেছেন, ‘আমরা এরই মধ্যে ২০২৩ সালে বৃহত্তর সামষ্টিক অর্থনীতির কিছু প্রভাব দেখেছি। তা সত্ত্বেও আমরা সত্যিই এ বছরজুড়ে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ দেখেছি। যার কারণ হচ্ছে, ইতিবাচক চাহিদা পয়েন্ট। এ মুহূর্তে আমাদের অগ্রাধিকার হচ্ছে উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং খরচ কমিয়ে আনা। এর মাধ্যমে আমরা নগদ অর্থ খরচের পরিমাণ কমিয়ে আনব।
রিভিয়ান ও তার মতো অন্যান্য উৎপাদক প্রতিষ্ঠান, যারা নগদ অর্থের সংকটে ভুগছে তাদের জন্য খরচ কমানো জরুরি। কেননা ইভি মার্কেটের নেতৃত্ব এখন টেসলার হাতে। প্রতিষ্ঠানটি চাহিদা বাড়াতে দাম কমানোর নীতি নিয়েছে। একই পথে হাঁটছে চীনা ইভি নির্মাতারাও। দেশটির রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে গ্রামাঞ্চলে ইভির বিক্রি বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এর মধ্যেই। সরকারি ভর্তুকি, বিশেষ মূল্যছাড় ও ইভি পণ্য কিনতে ঋণ দিতেও ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে চীনা নীতিনির্ধারকরা। ফলে ইভির বাজারে উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে মূল্যছাড় দেয়ার দিকে হাঁটতে যাচ্ছে রিভিয়ানের অন্য নির্মাতারাও। খরচ কমাতে রিভিয়ান গেল ফেব্রুয়ারিতে তার কর্মিবাহিনীর ৬ শতাংশ ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে গত মাসে প্রতিষ্ঠানটি বার্ষিক ৫০ হাজার গাড়ি উৎপাদনের পূর্বাভাস দিয়েছে।










