দিনাজপুরের হিলিতে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ৩-৪ টাকা করে। অটোরাইস মিল মালিকদের কারসাজিতে দাম বেড়েছে বলে দাবি করেন ব্যবসায়ীরা। মূল্যবৃদ্ধি রুখতে ভারত থেকে চাল আমদানির আহ্বান জানান তারা।
হিলি বাজারের চাল বিক্রেতা সুব্রত কুণ্ডু বলেন, চালের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। যে চাল আমরা ৪৪-৪৫ টাকা বিক্রি করেছি, সেই চাল এখন ৪৮-৪৯ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। অটোমিল মালিকরা ইচ্ছাকৃতভাবে চালের দাম বাড়াচ্ছেন।
চাল বিক্রেতা স্বপন কুমার বলেন, ইরি মৌসুম শুরু হলেও চালের দামের ওপর খুব একটা প্রভাব পড়েনি। ধানের ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে চালের দামও চড়া। ভারত থেকে যে এলসির মাধ্যমে চাল আমদানি হতো সেটি বন্ধ রয়েছে। বাজারে চালের সরবরাহ কম থাকায় দাম বাড়ছে। যদি ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু হয় তাহলে চালের দাম কিছুটা কমতে পারে।
তিনি আরো বলেন, প্রতি কেজি আটাশ জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৪৬ টাকা দরে, যা আগে ছিল ৪৩-৪৪ টাকা। অটোমিলের চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৮-৫০ টাকা দরে, যা আগে ছিল ৪৬ টাকা কেজি। মিনিকেট জাতের চাল বর্তমানে ৫৬-৫৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৫২ টাকা। সব জাতের চালের দাম কেজিপ্রতি ৩-৪ টাকা করে বেড়েছে।
বাজারে চাল কিনতে আসা ভ্যানচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের অবস্থা খুবই করুণ। করোনার কারণে উপার্জন বন্ধ। তার ওপর চালের দাম বাড়ায় দুর্দশায় জীবন কাটছে।
হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ হারুন বলেন, বর্তমানে ইচ্ছা থাকলেও ভারত থেকে চাল আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে না। ভারত থেকে চাল আমদানিতে ৬০ ভাগ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এ শুল্ক পরিশোধ করে মোটা চাল আমদানি করলে দেশের বাজারে দাম পড়ে ৫০-৫৫ টাকার মতো। বর্তমানে এ শুল্কহার থাকার কারণে চাল আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে না। সরকার যদি গতবারের মতো রেয়াতি সুবিধা বা শুল্কহার কমিয়ে দেয় তাহলে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভারত থেকে চাল আমদানি করা যাবে। এতে করে চালের বাজারে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা বন্ধ হবে।
হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর-এ আলম বলেন, চালসহ বেশ কয়েকটি ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়েছে বলে খবর পেয়েছি। প্রতিটি পণ্যের মূল্য যেন স্থিতিশীল থাকে, সেজন্য আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। অকারণে কেউ যেন কোনো পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি করে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলতে না পারে সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।










