বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থবিরতা কাটছে। ঘুরে দাঁড়াচ্ছে শিল্প ও অবকাঠামো নির্মাণ খাত। ফলে বাজারে বাড়ছে স্টেইনলেস স্টিলের (মরিচারোধক ইস্পাত) চাহিদা। বাজার চাঙ্গা থাকায় ঘটছে উৎপাদন খাতে সম্প্রসারণ। চলতি বছর অপরিশোধিত স্টেইনলেস স্টিল উৎপাদন ১১ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ইস্পাত শিল্পের নেতৃস্থানীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মেপস ইন্টারন্যাশনাল এ পূর্বাভাস দিয়েছে।

সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি অপরিশোধিত স্টেইনলেস স্টিলের বৈশ্বিক উৎপাদন পূর্বাভাস হালনাগাদ করে। পূর্বাভাসে বলা হয়, চলতি বছর শেষে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত স্টেইনলেস স্টিলের মোট উৎপাদন দাঁড়াবে ৫ কোটি ৬৫ লাখ টনে। এটি গত বছরের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি।

বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ইন্দোনেশিয়া প্রত্যাশার চেয়েও বেশি অপরিশোধিত স্টেইনলেস ইস্পাত উৎপাদন করে। পাশাপাশি বিশ্বের শীর্ষ ধাতব পণ্য ব্যবহারকারী দেশ চীনের উৎপাদনে উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। বাজারে প্রত্যাশিত সরবরাহ চাঙ্গা রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে দেশ দুটি।

মেপস জানায়, এ বছরের প্রথম প্রান্তিকে ইন্দোনেশিয়া রেকর্ড পরিমাণ স্টেইনলেস ইস্পাত উৎপাদন করে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৩০ হাজার টনে। এ সময় দেশটির উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ইউরোপে রফতানির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। এদিকে চলতি বছরের মে মাসের পর থেকে ইউরোপে রফতানীকৃত কোল্ড রোলড কয়েলের ওপর অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করা হয়।

ভারতের কারখানাগুলোতে চলতি বছর ৩৯ লাখ টন স্টেইনলেস স্টিল বিগলনের পূর্বাভাস দিয়েছে মেপস। ইউরোপের শিল্প খাতে ধাতুটির ব্যবহারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বছরের প্রথম প্রান্তিকে ভারতকে রফতানি বাড়াতে সুবিধা দিয়েছে। তবে ইন্দোনেশিয়ার কাছে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ স্টেইনলেস স্টিল উৎপাদনকারীর তকমা হারানোর ঝুঁকিতে আছে ভারত। নতুন নতুন কারখানায় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অত্যধিক বিনিয়োগ করছেন ইন্দোনেশিয়ার উৎপাদকরা।

এ বছর চীনের স্টেইনলেস স্টিল উৎপাদন বেড়ে ৩ কোটি ১৯ লাখ টনে পৌঁছার পূর্বাভাস দিয়েছে মেপস। কার্বন নিঃসরণবিরোধী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইস্পাত উৎপাদন হ্রাসের পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির। কিন্তু বছরের প্রথম প্রান্তিকে এ প্রচেষ্টা সফল হয়নি। বছরের বাকি মাসগুলোতে উৎপাদন যাতে নিয়ন্ত্রিত রাখা যায় সেজন্য রফতানি হ্রাসের নানা উদ্যোগ নিয়েছে চীন।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও তাইওয়ান গত বছরের উৎপাদন সীমারেখা ছাড়িয়ে যাবে। তবে তাইওয়ানের স্টেইনলেস স্টিল উৎপাদন খাত এখনো কিছুটা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। একটি প্লান্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড দেশটিকে কিছুটা বিপাকে ফেলেছে।

মেপস ইন্টারন্যাশনালের পূর্বাভাস বলছে, চলতি বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে স্টেইনলেস স্টিল জাহাজীকরণে শতাংশের ভিত্তিতে দুই সংখ্যার প্রবৃদ্ধি আসবে। এসব দেশের বন্দরগুলোতে সব মিলিয়ে ৬৯ লাখ ৫০ হাজার টন স্টেইনলেস স্টিল পৌঁছবে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অঞ্চলটির স্টেইনলেস স্টিল আমদানি ব্যাহত হতে পারে। ইউরোপের উত্তরাঞ্চলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশকিছু ইস্পাত প্রক্রিয়াজাত অবকাঠামো। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কাঁচামাল সরবরাহ। তবে চতুর্থ প্রান্তিকে চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে দেশগুলো।

চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের কারখানাগুলোতে উৎপাদন গত বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বছর শেষে উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে ২৪ লাখ ৬০ হাজার টনে।