কোরবানির ঈদকে ঘিরে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বাড়িয়েছেন আমদানিকারকরা। দেশের বাজারে চাহিদার তুলনায় পণ্যটির সরবরাহ খানিকটা বেড়েছে। এতে করে দুদিনের ব্যবধানে পাইকারিতে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৭-৮ টাকা করে কমেছে। খুচরা পর্যায়ে কেজিতে ১২-১৫ টাকা করে কমেছে দাম।  

হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আমদানির অনুমতি দেয়ায় বন্দর দিয়ে ইন্দোর ও নাসিক জাতের পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত আছে। আগের তুলনায় আমদানির পরিমাণ বাড়ায় দাম কমতির দিকে। বর্তমানে বন্দরে ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ পাইকারিতে (ট্রাকসেল) ২৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব পেঁয়াজ দুদিন আগেও ৩৫-৩৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল। এছাড়া নাসিক জাতের পেঁয়াজ ৩৭-৩৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দুদিন আগে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে ২৫-২৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কিছু খারাপ মানের পেঁয়াজ ২০-২২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

হিলি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘‌ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হওয়ার পরই দাম কমতে শুরু করেছে। দুদিন আগে যে পেঁয়াজ আমরা ৪০ টাকা কেজি দরে কিনেছিলাম, সে পেঁয়াজ ২৫-২৮ টাকা কেজি দরে কিনছি। দুদিনের ব্যবধানে কেজিতে ১২-১৫ টাকা করে দাম কমেছে।’ 

হিলি বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা শাকিল খান বলেন, ‘‌ভারত থেকে আমদানি বন্ধ থাকায় দেশের বাজারে দেশীয় পেঁয়াজ দিয়েই চাহিদা মিটছিল। কিন্তু দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ কমায় ও মোকামের কিছু ব্যবসায়ীর বাড়তি মুনাফার লাভের চেষ্টায় দাম বাড়তে থাকে। ২৫-৩০ টাকার পেঁয়াজ বাড়তে বাড়তে ৯০ টাকায় গিয়ে ঠেকে। ভারত থেকে আমদানি শুরু হওয়ায় দাম আবারো কমতে শুরু করেছে। বর্তমানে বন্দর দিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। বাজারে পেঁয়াজের যথেষ্ট পরিমাণ সরবরাহ রয়েছে। আমরা স্থানীয় আমদানিকারকদের কাছ থেকে পেঁয়াজ কিনে বাজারে বিক্রি করছি। আমদানি বাড়ার কারণে পেঁয়াজের দাম কমতির দিকে। দাম কমার কারণে বাজারে বেচাকেনাও বেড়ে গেছে। বর্তমানে ভারতীয় পেঁয়াজ খুচরায় ২৫-২৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি, যা দুদিন আগেও ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।’ 

হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা পাইকার আইয়ুব হোসেন বলেন, ‘‌রাজধানী ঢাকাসহ দেশের মোকামগুলোয় আমদানীকৃত ভারতীয় পেঁয়াজের বেশ চাহিদা রয়েছে। আমদানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম কমায় মোকামগুলোয় পেঁয়াজ কেনা শুরু করে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। চাহিদামতো পেঁয়াজ বন্দর থেকে কিনে সরবরাহ করছি আমরা। বর্তমানে বন্দরে ইন্দোর ও নাসিক জাতের পেঁয়াজ ২৭-৩০ টাকা কেজি দরে কিনছি, যা দুদিন আগেও         ৩৫-৩৮ টাকা কেজি দরে কিনতে হয়েছিল।’

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘‌দেশে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার আমদানির অনুমতি দেয়। এর পর থেকেই হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রেখেছেন আমদানিকারকরা। হিলি স্থলবন্দরের বেশ কয়েকজন আমদানিকারক ৬০ হাজার টনের বেশি পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি পেয়েছেন। অনুমতি পেয়ে অনেক আমদানিকারক পেঁয়াজের এলসি খুলেছেন। এসব এলসির বিপরীতে বন্দর দিয়ে এরই মধ্যে পেঁয়াজ আসা শুরু হয়েছে। দেশের অন্যান্য স্থলবন্দর দিয়েও পর্যাপ্ত পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে।’ 

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, ‘‌সরকার নতুন করে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয়ায় গত ৫ জুন হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। এর পর থেকেই বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি আমদানির পরিমাণ বেড়েছে। বন্দর দিয়ে গত ৫-১৫ জুন পর্যন্ত ১০ কর্মদিবসে ৩১১টি ট্রাকে ৮ হাজার ৭২৩ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।’