চীনা অর্থনীতি ২০২৩ সালে দ্রুত পুনরুদ্ধারের কথা থাকলেও ডিসেম্বরে বাড়েনি শিল্পোৎপাদন। ডিসেম্বরে টানা তৃতীয় মাসের মতো কারখানা কার্যক্রম সংকুচিত হয়েছে। এছাড়া তিন মাসের মধ্যে প্রত্যাশার চেয়ে উৎপাদন কম হওয়ায় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে পিছিয়ে পড়েছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, এমন নিম্নমুখী উৎপাদন ব্যবস্থার মধ্য দিয়েই শুরু হবে চীনের ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান। খবর রয়টার্স।

কভিড-পরবর্তী ধাক্কা সামলাতে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি প্রকল্প হাতে নিলেও তেমন উন্নতি আসেনি চীনা অর্থনীতিতে। প্রপার্টি মার্কেটে সংকট, স্থানীয় সরকারে ঋণের ঝুঁকি, বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে এখন পর্যন্ত অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতার মুখে রয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এ দেশ। 

চীনের পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই) ডিসেম্বরে ৪৯ শতাংশে নেমেছে, যা গত মাসে ছিল ৪৯ দশমিক ৪ শতাংশ। রয়টার্সের জরিপে দেখা গেছে, সামনের মাসগুলোয়ও চীনের অর্থনৈতিক সূচকটি ৫০-এর নিচে থাকবে। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, এটা সম্প্রসারণের পরিবর্তে সংকোচনের আশঙ্কাকে দৃঢ় করছে।

বিভিন্ন নীতিসহায়তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও আরো প্রবৃদ্ধি বাস্তবায়নের জন্য কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ বাড়ছে। এর আগের কয়েক মাসেও চীনের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা বৃদ্ধি ধীর ছিল। পাশাপাশি অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন রফতানি ও আমদানির ক্রয়াদেশ কমেছে। 

হোয়াবাও ট্রাস্টের অর্থনীতিবিদ নি ওয়েনা বলেছেন, ‘‌আমাদের অবশ্যই নীতিগত সহায়তা বাড়াতে হবে। এছাড়া দেশের প্রবৃদ্ধির মন্থর প্রবণতা অব্যাহত থাকবে বলে।’

চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ২০২৪ ও তার পরে টেকসই প্রবৃদ্ধির বিষয়ে আস্থা প্রকাশ করেছেন। তবে তিনি টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য অবকাঠামো ও সম্পত্তির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।

নীতি উপদেষ্টারা পরামর্শ দিয়েছেন যে আগামী বছর প্রায় ৫ শতাংশ বার্ষিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য বজায় রাখতে অতিরিক্ত প্রণোদনা প্রয়োজন হতে পারে, যা চলতি বছরের লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।