বিশ্বজুড়ে লিথিয়ামসহ ক্রিটিক্যাল মিনারেলের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। আর এক্ষেত্রে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে সম্প্রসারণশীল জ্বালানি শিল্প। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) চলতি সপ্তাহে এক প্রতিবেদনে এমনটা জানিয়েছে।
ক্রিটিক্যাল মিনারেল মূলত এমন সব ধাতব ও অধাতব খনিজ, যার চাহিদা পুরোপুরি প্রযুক্তিনির্ভর। যেকোনো সময় এসব খনিজের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। লিথিয়াম, কোবাল্ট, নিকেল, তামা, গ্রাফাইট ও রেয়ার আর্থই মূলত ক্রিটিক্যাল মিনারেল হিসেবে পরিচিত।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার ক্রিটিক্যাল মিনারেলস মার্কেট রিভিউ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭-২০২২ সাল পর্যন্ত লিথিয়ামের চাহিদা বেড়ে তিন গুণ হয়েছে। কোবাল্টের চাহিদা বেড়েছে ৭০ শতাংশ। অন্যদিকে নিকেলের চাহিদা বেড়েছে ৪০ শতাংশ ।
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে স্থানান্তরের জন্য ক্রিটিক্যাল মিনারেলের বাজার বেড়ে ২০২২ সালে ৩২ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত হয়। গত পাঁচ বছরের তুলনায় যা দ্বিগুণ।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ২০২১ সাল ও ২০২২ সালে অনেক ক্রিটিক্যাল মিনারেলের দাম লক্ষণীয় মাত্রায় বেড়েছে। এ সময় বাজারে ব্যাপক অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। বিশেষ করে লিথিয়াম ও নিকেলের বাজার ছিল টালমাটাল। তবে গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধ এবং চলতি বছরের প্রথম দিক থেকে এসব খনিজের দাম কমতে শুরু করে। যদিও ঐতিহাসিক গড় হিসাবের তুলনায় এসবের দাম এখনো অনেক উচ্চতায় রয়েছে।
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধে উন্নত দেশগুলোর কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার উদ্যোগ দিয়েছে। গাড়ি নির্মাণ খাত জ্বীবাশ্ম জ্বালানি থেকে পুরোপুরি বের হয়ে আসতে তোড়জোড় চালাচ্ছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, কয়েক দশকের মধ্যে জ্বীবাশ্ম জ্বালানিচালিত গাড়ির বাজার দখল করে নেবে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি। আর এসব গাড়ি ও এর ব্যাটারি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ লিথিয়াম, কোবাল্ট ও নিকেলসহ অন্যান্য ক্রিটিক্যাল মিনারেল। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতও এসব খনিজের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এসব খাতই মূলত খনিজগুলোর চাহিদা বাড়াতে ভূমিকা পালন করছে।
ব্যাটারি উৎপাদন ও সোলার সেল তৈরিসহ অন্যান্য প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক বিস্তার ঘটছে ক্রিটিক্যাল মিনারেল হিসেবে বিবেচিত খনিজগুলো। যার কারণে এসব ধাতুর নজিরবিহীন চাহিদা বাড়ছে বলে জানায় আইইএ।
এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০২২ সালে ক্রিটিক্যাল মিনারেল উন্নয়নে বিনিয়োগ ৩০ শতাংশ বেড়েছে। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২১ সালের বিনিয়োগ বেড়েছিল ২০ শতাংশ।
আইইএ আরো জানায়, ব্যাটারি ছাড়া ইলেকট্রনিক পণ্য ও বৈদ্যুতিক গাড়ির অস্তিত্ব কল্পনাই করা যায় না। আর এসব ব্যাটারি তৈরির প্রধান উপকরণ লিথিয়াম। খনিজটি অনুসন্ধানে ব্যয়ের পরিমাণ ৯০ শতাংশ বেড়েছে। এর অর্থ হলো সাম্প্রতিক বছরগুলোয় লিথিয়াম শনাক্তকরণ ও এ খাতের উন্নয়নে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ এসেছে।
জ্বীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত অর্থনীতি গড়ে তুলতে লিথিয়ামকে প্রধান উপকরণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জাতিসংঘ। ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতের পরিচ্ছন্ন জ্বালানির বিদ্যুৎ গ্রিডে জ্বালানি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে লিথিয়াম।
এদিকে ইউরেনিয়াম খাতেও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে বিনিয়োগ। নতুন করে পরমাণু বিদ্যুতে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতিগুলো আগ্রহী হয়ে ওঠায় এ খাতে ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ। নিকেল অনুসন্ধানে ব্যয়ের পরিমাণ বেড়েছে ৪৫ শতাংশ।
আইইএর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল বলেন, চাহিদা বাড়লেও ক্রিটিক্যাল মিনারেল খাতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।










