নাইজেরিয়ায় আমদানীকৃত পণ্যগুলোর মধ্যে ডেইরি অন্যতম। দেশটির অভ্যন্তরীণ ডেইরি চাহিদার প্রায় অর্ধেকই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। তবে এবার পণ্যটির আমদানিতে মন্দা ভাব বজায় রয়েছে। সেন্ট্রাল ব্যাংক অব নাইজেরিয়া (সিবিএন) সম্প্রতি কতিপয় পণ্যের আমদানিতে ব্যবহারযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বিধিনিষেধ এনেছে। এ তালিকায় রয়েছে ডেইরি পণ্যও। এতে নিউজিল্যান্ডসহ আরো তিনটি দেশ থেকে নাইজেরিয়ার ডেইরি পণ্য আমদানি কমেছে ২৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। খবর নিউ টেলিগ্রাফ।

ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড স্ট্যাটিস্টিকসের (আইটিএস) তথ্য অনুযায়ী, ডেইরি পণ্য আমদানিতে সিবিএনের বৈদেশিক মুদ্রা সীমাবদ্ধকরণ নীতির প্রভাবে এবার আমদানি নিম্নমুখী রয়েছে। ২০১৭ ও ২০১৮ সালে ডেইরি পণ্য আমদানিতে দেশটির ব্যয় দাঁড়িয়েছিল মোট ২১ হাজার ১০০ কোটি নাইরো (স্থানীয় মুদ্রা) বা ৫৭ কোটি ৮৯ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার।

এর মধ্যে ২০১৭ সালে ৩৩ কোটি ১১ লাখ ৯০ হাজার ডলার সমমূল্যের ডেইরি পণ্য আমদানি করেছিল দেশটি। আর ২০১৮ সালে আমদানির পরিমাণ ছিল ২৪ কোটি ৭৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার সমমূল্যের। 

এর মধ্যে নিউজিল্যান্ড থেকে দেশটির আমদানি কমেছে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ। এবার দেশটি থেকে আমদানি হয়েছে ১১ কোটি ৯ লাখ ডলার সমমূল্যের ডেইরি পণ্য। আগের বছর আমদানি হয়েছিল ১২ কোটি ২৪ লাখ ডলার সমমূল্যের। এছাড়া আমদানি কমেছে নেদারল্যান্ডস ও জার্মানি থেকেও। নেদারল্যান্ডস থেকে আমদানি দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ২৬ লাখ ডলারের, যা আগের বছরের তুলনায় ৪১ দশমিক ৯৭ শতাংশ কম। আগের বছর আমদানি হয়েছিল ১০ কোটি ৭৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার সমমূল্যের ডেইরি পণ্য। জার্মানি থেকে আমদানির পরিমাণ ১৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৯০ হাজার ডলারে। আগের বছরে এই পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ৪৪ লাখ ডলার।

এদিকে আমদানি কমার সঙ্গে দেশটির স্থানীয় পর্যায়ে দুধ উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। দেশটিতে পাস্তুরিত দুধের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ টনের মতো, যার আমদানি ব্যয় ৫৫ হাজার ৮৬০ কোটি নাইরো বা ১৫৫ কোটি ইউরো। দেশটির বর্তমানে পাস্তুরিত দুধের চাহিদা রয়েছে ১৩ লাখ টন। আর এ খাতের সক্ষমতা রয়েছে মাত্র ৭ লাখ টন বা ৫৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

গুঁড়ো দুধ রফতানিতে নেদারল্যান্ডস ও ডেনমার্ক ইউরোপের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। নাইজেরিয়ায় এ দুটি দেশের গুঁড়ো দুধের পর্যাপ্ত চাহিদা থাকায় রফতানিতে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি

ঘটেছে। এবার আমদানি কমে আসার পরেও দেশটিতে নেদারল্যান্ডস ও ডেনমার্ক থেকে আমদানীকৃত ননিমুক্ত গুঁড়ো দুধের চাহিদা বেড়েছে ৪৩ শতাংশ।