বাণিজ্যিক জাহাজে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার পর লোহিত সাগরে কার্যক্রম স্থগিত করেছিল গ্লোবাল শিপিং জায়ান্ট মায়েরস্ক। সপ্তাহ দেড়েকের ব্যবধানে সে রুটে ফিরতে যাচ্ছে সংস্থাটি। খবর সিএনএন।
সম্প্রতি এক ঘোষণায় ডেনিশ কোম্পানিটি জানায়, মার্কিন নেতৃত্বাধীন নতুন নিরাপত্তা বলয় প্রতিষ্ঠার পর তাদের কনটেইনার জাহাজ পুনরায় লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে প্রবেশ করবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অপারেশন প্রসপারিটি গার্ডিয়ান’ নিরাপত্তা অভিযান পুরো শিপিং শিল্পের জন্য সুখবর ও এটি বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য কার্যকরী সিদ্ধান্ত। বহুজাতিক এ নিরাপত্তা বলয়ে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যুক্তরাজ্য, বাহরাইন, কানাডা, ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সেশেলস ও স্পেন।
অপারেশন প্রসপারিটি গার্ডিয়ানের লক্ষ্য হুথি হামলা থেকে বাণিজ্যিক জাহাজকে রক্ষা করা। এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি বহুজাতিক নৌবাহিনীর জোট। সম্প্রতি পেন্টাগন জানায়, ২০টিরও বেশি দেশ এখন এ গ্রুপে অংশ নিতে সম্মত। আবার কিছু দেশ তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেনি। কয়েকটি দেশ বলেছে, লোহিত সাগরে জাহাজ সুরক্ষায় তাদের প্রচেষ্টা নতুন মার্কিন নেতৃত্বাধীন অপারেশনের পরিবর্তে বিদ্যমান নৌচুক্তির অংশ হিসেবে হবে।
প্রসঙ্গত, গাজায় অব্যাহত ইসরায়েলি হামলা ও হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহতের প্রতিক্রিয়া হিসেবে বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণ চালাচ্ছে হুথিরা।
ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে এমন জাহাজে হামলার ঘোষণা দেয় তারা। জ্বালানি তেল জায়ান্ট বিপিসহ বিশ্বের বড় কিছু কোম্পানি সম্প্রতি লোহিত সাগরে কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দেয়। যার কারণে বাণিজ্য তরীগুলোকে সুয়েজ খাল এড়িয়ে যেতে হচ্ছে। বৈশ্বিক বাণিজ্যের ১০-১৫ ও কনটেইনার বাণিজ্যের ৩০ শতাংশ লোহিত সাগর ও ভূমধ্যসাগরের সংযোগকারী জলপথ দিয়ে যায়। বৈশ্বিক শিপিং লাইনগুলোর মধ্যে মায়েরস্ক প্রথমে লোহিত সাগর থেকে জাহাজ সরিয়ে নিয়েছিল। এরপর বিকল্প দীর্ঘ রুটে পণ্য পরিবহনে নতুন চার্জ চালু করে। লোহিত সাগর থেকে জাহাজ সরিয়ে নেয়া সংস্থার তালিকায় রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম শিপিং গ্রুপ মেডিটেরানিয়ান শিপিং কোম্পানি (এমএসসি)। আরো আছে ফরাসি কোম্পানি সিএমএ সিজিএম ও জার্মান সংস্থা হ্যাপাগ-লয়েড।
সর্বশেষ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যত তাড়াতাড়ি সম্ভব’ লোহিত সাগরে চলাচল শুরু করতে জাহাজ প্রস্তুত করছে মায়েরস্ক। তাদের অগ্রাধিকারের শুরুতেই রয়েছে কর্মীদের নিরাপত্তা।










