চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত ঘাটতিতে থাকবে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক বাজার। একই সঙ্গে আগামী বছরের মে মাস পর্যন্ত পণ্যটির বৈশ্বিক মজুদ তুলনামূলকভাবে হ্রাস পেতে পারে। ওপেক প্লাস এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তেল উত্তোলন বৃদ্ধিজনিত চাপের জেরে অনুষ্ঠিত নীতিনির্ধারণী বৈঠকের একদিন আগেই বাজার পরিস্থিতি নিয়ে এমন তথ্য দেয় ওপেক প্লাস। খবর রয়টার্স।

জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর জোট (ওপেক) এবং রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন এর মিত্র দেশগুলো ওপেক প্লাস নামে পরিচিত। জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার স্থিতিশীল রাখতে বুধবার জোটটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে জ্বালানি তেল উত্তোলন বৃদ্ধির বিদ্যমান সিদ্ধান্তে অটল থাকতে সম্মত হয় জোটভুক্ত দেশগুলো।

ওপেকের একটি সূত্র জানায়, সম্প্রতি চাহিদা ও সরবরাহে ভারসাম্য আনতে এবং ঊর্ধ্বমুখী দামে লাগাম টেনে ধরতে ওপেকভুক্ত দেশগুলোকে জ্বালানি তেল উত্তোলন বৃদ্ধির আহ্বান জানায় বাইডেন প্রশাসন।

রয়টার্স জানায়, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ঘাটতির আশঙ্কা ওপেক প্লাসকে উত্তোলন বৃদ্ধিতে উদ্বুদ্ধ করেছে। অন্যদিকে সংকুচিত বাজার পণ্যটির দামেও প্রভাব ফেলেছে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৩ ডলারে পৌঁছেছে। এটি কয়েক বছরের সর্বোচ্চ দামের কাছাকাছি।

ওপেক প্লাসের জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটি (জেটিসি) ২০২১-২২ মৌসুমে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজারসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন হালনাগাদ করেছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ওপেকের একটি সূত্র জ্বালানি তেলের ঘাটতির পূর্বাভাস দেয়।

সূত্র জানায়, প্রতিবেদনটি এখনো প্রকাশ হয়নি। এতে দেয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক ঘাটতি দৈনিক নয় লাখ ব্যারেলে পৌঁছতে পারে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়িয়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা। ফলে ধারাবাহিকভাবে উত্তোলনও বাড়াচ্ছে ওপেক প্লাস। তবে উত্তোলনের তুলনায় চাহিদার পরিমাণ বেশি হওয়ায় ঘাটতির আশঙ্কা বাড়ছে।

এদিকে চলতি বছর ঘাটতি তৈরি হলেও আগামী বছর তা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বিশ্ববাজার। ওপেক প্লাসের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালে বিশ্ববাজারে দৈনিক ২৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উদ্বৃত্ত থাকবে। তবে পরবর্তী হালনাগাদে উদ্বৃত্তের পরিমাণ কমিয়ে দৈনিক ১৬ লাখ ব্যারেলে নামিয়ে আনা হয়। এদিকে উদ্বৃত্তের পরিমাণ কমিয়ে আনায় আগামী বছরের মে পর্যন্ত অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ হ্রাসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ওপেক প্লাসের সূত্রটি জানায়, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং উন্নয়ন সংস্থাভুক্ত দেশগুলোর গড় মজুদ চার বছরের সর্বনিম্নে নেমে যেতে পারে।

গত বছর করোনা মহামারীর প্রভাবে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা দৈনিক প্রায় ৯০ লাখ টন কমে যায়। চলতি বছর জ্বালানি পণ্যটির চাহিদা দৈনিক ৫৯ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল করে বাড়বে বলে মনে করছে ওপেক প্লাসের জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটি। যদিও বছরের প্রথমার্ধে চাহিদা বৃদ্ধির পরিমাণ ছিল দৈনিক ৩০ লাখ ব্যারেল। এদিকে আগামী বছর চাহিদার পরিমাণ দৈনিক ৩২ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল করে বৃদ্ধি পেতে পারে।