তুলা আমদানিতে বাংলাদেশের অন্যতম উৎস ভারত। প্রতিবেশী দেশটি থেকে প্রতি বছরই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তুলা ক্রয় করা হয়। একই সঙ্গে দ্বিতীয় শীর্ষ উৎপাদক হওয়ায় এশিয়াসহ বিশ্ববাজারেও ভারতীয় তুলার প্রভাব রয়েছে। কিন্তু সদ্য শুরু হওয়া উৎপাদন মৌসুমে দেশটির তুলা রফতানি কমে যাওয়ার পূর্বাভাস মিলেছে। শিল্প-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২১-২২ মৌসুমে ভারতের তুলা রফতানি ৩৬ শতাংশ কমতে পারে।

এর আগে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ভারতের তুলা উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিল গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ফিচ সলিউশন। তবে নতুন মৌসুমে উৎপাদন বৃদ্ধির আভাস মিলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকলেও দেশের বাজারে শক্তিশালী চাহিদা এবং নিম্নমুখী মজুদের কারণে রফতানি কমাতে বাধ্য হচ্ছে ভারত।

গত অক্টোবরে ভারতে তুলার ২০২১-২২ উৎপাদন মৌসুম শুরু হয়েছে। আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে মৌসুম শেষ হবে। মুম্বাইভিত্তিক কটন অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার (সিএআই) প্রাক্কলন অনুযায়ী, নতুন এ মৌসুমে ভারত ৪৮ লাখ বেল (প্রতি বেলে ১৭০ কেজি) তুলা রফতানি করতে সক্ষম হবে। বিদায়ী মৌসুমের তুলনায় রফতানি কমবে ৩০ লাখ বেল। ওই মৌসুমে ভারত সব মিলিয়ে ৭৮ লাখ বেল তুলা রফতানি করে, যা আট বছরের সর্বোচ্চ।

চীন বিশ্বের শীর্ষ তুলা ব্যবহারকারী দেশ। দেশটিতে অত্যধিক চাহিদার কারণে বিশ্ববাজারে তুলার দাম এক দশকের সর্বোচ্চে উঠেছে। এর মধ্যেই ভারতের তুলা রফতানি কমে যাওয়ার খবরে দাম আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিল্প-সংশ্লিষ্টরা।

সিএআইয়ের প্রাক্কলন অনুযায়ী, নতুন এ মৌসুমে ভারত ৩ কোটি ৬০ লাখ ১৩ হাজার বেল তুলা উৎপাদনে সক্ষম হবে। আগের মৌসুমের তুলনায় উৎপাদন ৭ লাখ ১৩ হাজার বেল বাড়বে। যদিও ভারতে প্রধান তুলা উৎপাদনশীল রাজ্যগুলোয় ভারি বৃষ্টিপাত দেখা দিয়েছে। ফলে গুজরাট, মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানা ও মধ্যপ্রদেশে ফলন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে কীটপতঙ্গের আক্রমণও। তুলা উৎপাদনে ভারতের অন্যতম আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য পাঞ্জাবে পিংক বোলওয়ার্মের (এক ধরনের পতঙ্গ) প্রাদুর্ভাবও দেখা দিয়েছে। এসব কারণে উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সর্বোপরি ভারতে কভিড-১৯ মহামারীর চলমান প্রভাব টেক্সটাইল খাতের এ কাঁচামাল উৎপাদন ও ব্যবহারে দীর্ঘ সময় ধরে টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি করে রেখেছে।

চলতি মৌসুমে ভারতে তুলার ব্যবহার দাঁড়াবে ৩ কোটি ৩৫ লাখ বেলে। এটি গত বছরের সমপরিমাণ। সিএআইয়ের প্রাক্কলন বলছে, সদ্য শুরু হওয়া মৌসুমে তুলা আমদানি গত বছরের মতোই অপরিবর্তিত থাকবে। আমদানির পরিমাণ দাঁড়াবে ১০ লাখ বেলে। আগামী বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তুলার মজুদ দাঁড়াবে ৬২ লাখ ১৩ হাজার বেল।

ফিচ সলিউশন জানায়, চলতি বছর তুলার বৈশ্বিক চাহিদা নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে। এক্ষেত্রে প্রত্যাশার তুলনায় বেশি চাহিদা তৈরি হবে বাংলাদেশ ও তুরস্কে। এ বছর তুলার বৈশ্বিক চাহিদা ১৪ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের টেক্সটাইল খাতে দ্রুত প্রসার ঘটছে। ফলে বৈশ্বিক তুলা ব্যবহারে দেশ দুটির অংশীদারিত্ব লক্ষণীয় মাত্রায় বাড়বে। এদিকে স্বল্প ব্যয়ের উৎপাদনে স্থানান্তর হওয়ায় লাভবান হবে ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তান। বিপরীতে পোশাক রফতানিতে বিশ্ববাজারে হিস্যা বাড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে চীন।