যুক্তরাজ্যের প্রপার্টির দাম গত এক দশকের মধ্যে দ্রুততম গতিতে সাশ্রয়ী হয়েছে। ব্রিটেনজুড়ে বাড়ির দাম ২০ বছরের মধ্যে মানুষের নাগালে রয়েছে। এতে আরো বেশি মানুষ প্রপার্টি কেনার সুযোগ পাচ্ছে। খবর গালফ নিউজ।
প্রপার্টি খাতের এ ধারা মজুরি বৃদ্ধির কারণে হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। বর্তমান এ পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের কনজারভেটিভ পার্টির সরকারের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। পাশাপাশি আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে এ ইস্যু একটি সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে। যদিও বাড়ির দামের পতন কনজারভেটিভ পার্টির সমর্থকদের বিরক্তির কারণ হতে পারে। তবে তরুণ ভোটাররা উচ্চ মর্গেজ ব্যয় ও প্রপার্টির দাম নিয়ে এখনো উদ্বিগ্ন।
যুক্তরাজ্যের প্যান্থিয়ন ম্যাক্রোইকোনমিকসের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ গ্যাব্রিয়েলা ডিকেন্স জানান, ব্রিটেনের পরিবারগুলোর প্রপার্টির দামে খুশি হওয়া উচিত। কারণ ২০২৪ সালে প্রকৃত আয় বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
ন্যাশনাল বিল্ডিং সোসাইটির প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুসারে, চলতি বছর গড় বাড়ির দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৪৩ পাউন্ডে দাঁড়িয়েছে। যা গত ডিসেম্বরে অর্থনীতিবিদদের করা ১০ শতাংশ পতনের পূর্বাভাসের চেয়ে কম হয়েছে।
যুক্ত্ররাজ্যে প্রপার্টির দাম স্থিতিশীল থাকার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত প্রপার্টির অভাব ও ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সুদহার বাড়ার ফলে ঋণ ব্যয় বেড়ে যাওয়া। ২০২৪ সালের জন্য পূর্বাভাসগুলোয় বলা হচ্ছে বাড়ির দামে মাঝারি পতন দেখা যেতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বছরটিতে শূন্য থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত দাম কমে আসার পূর্বাভাস করা হয়েছে। ব্লুমবার্গের অর্থনীতিবিদরা ২০২৪ সালে ৪ শতাংশের কাছাকাছি গড় মজুরি বাড়ার আশা করেছেন। মজুরি বাড়লে ১৯৯০-এর দশকের মতো আবাসন বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব হবে।
ইতিবাচক প্রবণতা থাকা সত্ত্বেও কিছু অর্থনীতিবিদ যুক্তরাজ্যের বাড়িগুলোকে অত্যধিক মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে মনে করেন। তবে তরুণ ভোটাররা বাড়ি কেনার সামর্থ্য নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন। এটি মোকাবেলার জন্য সরকার দীর্ঘমেয়াদি মর্টগেজ ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে। পাশাপাশি হেল্প টু বাই প্রগ্রামকে পুনরুজ্জীবিত করার মতো পদক্ষেপগুলো বিবেচনা করছে।










