জাপানি ইয়েনের বিপরীতে গতকাল ডলারের বিনিময় হার চলতি বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদহার কমাতে পারে এ সম্ভাবনাও বেড়েছে। এমনকি ব্যাংকটি ৫০ শতাংশীয় পয়েন্ট সুদহার কমাতে পারে এ সম্ভাবনা ১৪ থেকে ৪১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এসব কারণে গতকাল রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছেছে স্বর্ণের দাম। খবর রয়টার্স।

স্পট মার্কেটে গতকাল স্বর্ণের দাম আগের দিনের তুলনায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। আউন্সপ্রতি মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৭০ ডলারে। স্বর্ণের দাম সর্বশেষ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্সে রেকর্ড ২ হাজার ৫৬৬ ডলারে পৌঁছেছিল।

সিঙ্গাপুরে একটি ফোরামে ফেডের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ডাডলি বলেন, ‘সুদহার ৫০ শতাংশীয় পয়েন্ট কমানোর পেছনে একটি শক্তিশালী যুক্তি রয়েছে।’

সিটি ইনডেক্সের মার্কেট স্ট্র্যাটেজিস্ট ফিওনা সিঙ্কোটা বলেন, ‘‌আমি এর আগে ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট সুদহার কমাতে পারে এ মতামতের পক্ষে ছিলাম। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে তা ৫০ শতাংশই হতে পারে। সুদহার কমানোর সম্ভাবনা বাড়ায় বন্ড, ইয়েন, ডলার ও স্বর্ণের বাজারে তার প্রভাব দেখা যাচ্ছে।’

ইয়েনের বিপরীতে ডলারের বিনিময় হার গতকাল ১ শতাংশ কমেছে, যা গত ২৮ ডিসেম্বরের পর সর্বনিম্ন।

তবে কমনওয়েলথ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার স্ট্র্যাটেজিস্ট ক্যারোল কং একটি নোটে লিখেছেন, ‌আমরা ফেডের সুদহার ৫০ শতাংশীয় পয়েন্ট কমানোর চেয়ে ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কমাতে পারে এ মতের পক্ষে থাকছি। কারণ শ্রমবাজার ও বিস্তৃত অর্থনীতি এখনো স্থিতিশীল।

সিটি রিসার্চের উত্তর আমেরিকার কমোডিটিজ প্রধান আকাশ দোশী বলেন, ‘‌স্বর্ণের দাম গত ছয় মাসে নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে। চলতি বছরের এ পর্যন্ত এটির দাম ২৪ শতাংশ বেড়েছে। মূল্যবান ধাতুটির দাম আগামী বছরের মধ্যেই আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ডলারে পৌঁছতে পারে। চলতি বছরের শেষে তা পৌঁছতে পারে আউন্সপ্রতি ২ হাজার ৬০০ ডলারে।’

এর আগে মাইনিং ডটকমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ফাইন্যান্সিয়াল কনসালট্যান্সি কোম্পানি জিল ইন্টেলিজেন্সের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডাম হ্যামিল্টন বলেন, ‘‌স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি পৌঁছতে পারে ২ হাজার ৯৫০ ডলারে।’

এদিকে বৃহস্পতিবার সিএনবিসি খাতসংশ্লিষ্টদের বরাত দিয়ে স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধির বেশকিছু কারণ জানিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মার্কিন মুদ্রাস্ফীতির তথ্য। অগমন্ট-গোল্ড ফর অলের হেড রিসার্চ রেনিশা চাইনানি বলেন, ‘স্বর্ণের দামের সাম্প্রতিক রেকর্ড ভেঙে এটি আউন্সপ্রতি ২ হাজার ৫৫০ থেকে ২ হাজার ৬০০ ডলারে পৌঁছতে পারে।’