গত মাসে চীনের অ্যালুমিনিয়াম আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ শতাংশ কমেছে। দেশটির শুল্ক বিভাগের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। বাজারসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, রেকর্ড সর্বোচ্চ উৎপাদন এবং বৈদেশিক সরবরাহে সংকটের কারণে ধাতুটির আমদানি চাহিদা ব্যাপক হারে কমেছে।

জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস জানায়, আগস্টে চীন ২ লাখ ৪৪০ টন অগঠিত অ্যালুমিনিয়াম ও অ্যালুমিনিয়ামজাত পণ্য আমদানি করেছে। গত বছর বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশটিতে অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন কমে গিয়েছিল। তবে এ বছর পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে। বিদ্যুৎ সংকট কমে যাওয়ায় বিগলন কেন্দ্রগুলো লক্ষণীয় মাত্রায় অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন বাড়িয়েছে।

চীন বিশ্বের শীর্ষ হালকা ধাতব উৎপাদক ও ব্যবহারকারী দেশ। আগস্টে দেশটি ৩৫ লাখ ১০ হাজার টন অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন করে। এটি মাসভিত্তিক রেকর্ড সর্বোচ্চ উৎপাদন।

এদিকে গত মাসে প্রাইমারি অ্যালুমিনিয়ামের বৈশ্বিক উৎপাদন আরো এক দফা বেড়েছে। ধাতুটির উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো ধাতুটির বৈশ্বিক উৎপাদন বাড়ল। উৎপাদন বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে চীন।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় উন্নত দেশগুলোয় কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে এগোচ্ছে। এক্ষেত্রে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে আনার কথা বলছেন পরিবেশবিদরা। বিকল্প হিসেবে গুরুত্ব বাড়ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানির। এ জ্বালানি খাতে অ্যালুমিনিয়ামের ব্যাপক চাহিদা থাকায় উৎপাদন বাড়ছে। অবকাঠামো, তার পরিবহন, সোলার প্যানেল তৈরিসহ নানা ক্ষেত্রেই ধাতুটির ব্যবহার রয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল অ্যালুমিনিয়াম ইনস্টিটিউট কর্তৃক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছে, আগস্টে প্রাইমারি অ্যালুমিনিয়ামের বৈশ্বিক উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৫৮ লাখ ৪৮ হাজার টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। জুলাইয়ে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৫৬ লাখ ৫০ হাজার টন। সে হিসেবেও উৎপাদন বেড়েছে। বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় অর্ধেকই এসেছে চীন থেকে। তবে দেশটিতে নতুন করে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কায় ধাতুটির দাম কমতির দিকে। এসব বিষয় চাহিদায়ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

ফেচ রেটিংস জানিয়েছে, এ বছর লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) অ্যালুমিনিয়ামের গড় দাম স্থির হতে পারে টনপ্রতি ২ হাজার ৭০০ ডলারে। এর আগের পূর্বাভাসে প্রতিষ্ঠানটি ২ হাজার ৯৫০ ডলারের পূর্বাভাস দিয়েছিল। অর্থাৎ ধাতুটির দাম লক্ষণীয় মাত্রায় কমবে। অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কাকে দাম কমে যাওয়ার পেছনে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা।