চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ২৯০ কোটি ডলারের কফি রফতানির প্রাক্কলন করেছে ভিয়েতনাম। দেশটির কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান বলছে, প্রাক্কলন মিলে গেলে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানি বাড়বে ৪৩ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে আমদানির পরিমাণ ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৮ লাখ ৩৩ হাজার টনে নামতে পারে। খবর ভিয়েতনাম নিউজ।
দেশটিতে মে মাসে কফির গড় রফতানি মূল্য ছিল টনপ্রতি ৪ হাজার ২০৮ ডলার, যা আগের মাসের তুলনায় ১১ দশমিক ৭ শতাংশ ও ২০২৩ সালের একই মাসের তুলনায় ৬৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। বছরের প্রথম পাঁচ মাসে কফির গড় মূল্য ছিল ৩ হাজার ৪২৮ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৯ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।
চলতি বছর ভিয়েতনামে দীর্ঘ সময় ধরে গরম আবহাওয়া ও খরা ছিল। ফলে রফতানির পরিমাণ বাড়লেও দেশটির রফতানিযোগ্য কফির উৎপাদন কমে গেছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলতি মৌসুমের এখন পর্যন্ত ১২ লাখ টন কফি রফতানি করেছে দেশটি। দাম বাড়ায় রফতানিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি এসেছে। ফলে দেশটিতে কফির মজুদ কমে এসেছে।
ভিয়েতনাম কফি অ্যাসোসিয়েশনের (ভিকোভা) পূর্বাভাস ছিল, ২০২৩-২৪ মৌসুমে দেশটির কফি রফতানি ২০ শতাংশ কমে ১৩ লাখ ৩৬ হাজার টনে নেমে যেতে পারে। তবে মার্কিন কৃষি বিভাগের ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিসের (এফএএস) পূর্বাভাস বলছে, ভিয়েতনামের রোবাস্তা কফি উৎপাদন ২ কোটি ৮০ লাখ ব্যাগ থেকে সামান্য কমে ২ কোটি ৭৯ লাখ ব্যাগ বা ১৬ লাখ ৮০ হাজার টনে নেমে যেতে পারে।
মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জ ফর ভিয়েতনামের তথ্যানুসারে, চলতি বছর ব্রাজিল ও ভিয়েতনামের মতো প্রধান প্রধান কফি রফতানিকারক দেশগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে কফির দাম অব্যাহতভাবে বাড়বে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, জুনেও কফির দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকবে। দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয় জানায়, অপরিকল্পিতভাবে কফি চাষ করতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। কেননা সম্প্রতি ইউরোপের দেশগুলো বননিধন নিয়ে নতুন আইন করেছে। কফিও এর আওতায় পড়েছে। নতুন আইনে কোনো দেশের কফি উৎপাদনের সঙ্গে বননিধনের সম্পর্ক পাওয়া গেলে ইউরোপের বাজারে সে দেশের কফি রফতানি নিষিদ্ধ হতে পারে। আগামী বছর থেকে এ আইন কার্যকর হবে।










