ভিয়েতনামে কফি বিন উৎপাদন ব্যাপক হারে কমেছে। মজুদও নিম্নমুখী। এ কারণে ক্রমবর্ধমান পানীয় পণ্যটির বৈশ্বিক বাজারদর আরো বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। খবর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

ভিয়েতনাম রোবাস্তা কফি উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ দেশ। ২০২২-২৩ মৌসুমে দেশটির কফির উৎপাদন লক্ষণীয় মাত্রায় কমতে পারে। ব্যবসায়ীদের পরিচালিত এক জরিপে দেখা গিয়েছে, সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ দেশটিতে কফির মজুদ আগের বছরের তুলনায় অর্ধেকে নেমে আসতে পারে।

এমন সময় ভিয়েতনামে কফির মজুদ ও উৎপাদন কমার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, যখন বৈশ্বিক করোনা মহামারীর ধাক্কা সামলে কফির বৈশ্বিক ব্যবহার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে শীর্ষ দেশটিতে উৎপাদন কমতে থাকায় পণ্যটির বিশ্ববাজার পরিস্থিতি আরো অস্থিতিশীল হয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

তথ্য বলছে, গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে রোবাস্তা কফির দাম ১০ মাসের সর্বনিম্নে নেমে গিয়েছিল। তবে ব্রাজিল ও আফ্রিকা থেকে সরবরাহ ঘাটতির উদ্বেগ ও ভিয়েতনামে উৎপাদন কমে যাওয়ার খবরে পণ্যটির দাম ১৭ শতাংশ বেড়েছে।

নেসলেসহ কফি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো রোবাস্তা বিন ইনস্ট্যান্ট কফি তৈরিতে ব্যবহার করে। এছাড়া স্প্রেসো ব্লেন্ডের ক্ষেত্রে এটির ব্যবহার রয়েছে। এ জাতটি সাধারণত অ্যারাবিকা কফির তুলনায় সাশ্রয়ী। ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতির মধ্যে কফির চাহিদা পূরণে কফিপ্রেমীরা অ্যারাবিকার পরিবর্তে রোবাস্তাই বেশি ব্যবহার করছেন।

শুল্ক বিভাগের তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথমার্ধে ভিয়েতনামে কফি বিনের প্রাপ্যতা কমেছে। কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এ সময় দেশটির কফি বিন রফতানি আগের বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে। রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৫০ হাজার টনে। মূলত কনটেইনার সরবরাহ ও জাহাজ সংকট শিথিল হওয়ায় দেশটি রফতানি বৃদ্ধি করে। কিন্তু রফতানি বাড়ায় দেশটি মজুদ ধরে রাখতে জটিলতার মুখে পড়তে পারে।

ভিয়েতনামের কফি ব্যবসায়ীরা বলছেন, নভেম্বরের শুরুর দিকে ভিয়েতনামের বাজারে কফির ভয়াবহ সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছি আমরা। স্থানীয় উৎপাদকরা মোট উৎপাদনের মাত্র ২ শতাংশ কফি মজুদ রেখেছেন। গত বছরের একই সময় তাদের কাছে মজুদের পরিমাণ ছিল ১৩ শতাংশ।

সাম্প্রতিক সময়ে কফির বৈশ্বিক বাজার সবচেয়ে বড় সরবরাহ ঘাটতির মুখে পড়েছে। কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা জানান, গত বছর বিশ্বের শীর্ষ কফি উৎপাদক দেশ ব্রাজিলে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ খরা দেখা দিলে দেশটির কফি উৎপাদন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে কলম্বিয়ায় কফির যে ক্ষতি হয়েছে, দেশটি তা এখনো পুষিয়ে উঠতে পারেনি। এছাড়া হন্ডুরাস, গুয়াতেমালা ও নিকারাগুয়ার সরবরাহও তলানিতে। আগামী মৌসুমে কোস্টারিকায় কফি বিন সংকটের আভাস মিলেছে। এছাড়া খরার কারণে রোবাস্তা উৎপাদন কমিয়ে এনেছে উগান্ডা।