চীন ও জার্মানিতে কারখানা পর্যায়ের উৎপাদন বেড়েছে। দেশ দুটিতে গত মাসে কারখানার উৎপাদন পরিমাপক সূচক পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই) প্রত্যাশার তুলনায় বেশি ছিল। তবে ঠিক উল্টো চিত্র দেখা গেছে যুক্তরাজ্যে। খবর ইউরো নিউজ। 

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, চীনের উৎপাদন খাত ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে আসছে। গত মাসে চাইনিজ কাসিন ম্যানুফ্যাকচারিং পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স ৫০ দশমিক ৮ পয়েন্টে পৌঁছায়, যা ৫০ দশমিক ৪ পয়েন্টের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। গত নভেম্বরে এটি ছিল ৫০ দশমিক ৭ পয়েন্ট। গত পাঁচ মাসে দেশটির কারখানার কর্মকাণ্ড চার দফা বেড়েছে।

এ সময়ে নতুন অর্ডার বাড়ার পাশাপাশি মোট বিক্রিও বেড়েছে। চাহিদা পুনরুদ্ধার অব্যাহত থাকায় বিক্রির পরিমাণ সাত মাসের শীর্ষে পৌঁছেছে। ইনপুট খরচ চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমেছে। তবে সুনির্দিষ্ট কিছু কাঁচামালের স্বল্পতা এবং অতিরিক্ত ট্যাক্স সাপ্লাই চেইনের ওপর চাপ তৈরি করে।

জার্মান ম্যানুফ্যাকচারিং খাতও নিজেদের সবচেয়ে খারাপ অবস্থা কাটিয়ে উঠেছে। গত ডিসেম্বরে দেশটির পিএমআই ছিল ৪৩ দশমিক ৩ পয়েন্ট। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল এটি ৪৩ দশমিক ১ পয়েন্টে দাঁড়াবে। নভেম্বরে এর পরিমাণ ছিল ৪২ দশমিক ৬ পয়েন্ট। 

পিএমআই ৫০ পয়েন্টের নিচে থাকায় জার্মান উৎপাদন খাত এখনো সংকোচনের মধ্যে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিনিয়োগকারীরা আশাবাদী, এ অবস্থা ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে।

২০২০ সালের অক্টোবরের পর জার্মানিতে কর্মসংস্থান দ্রুত কমতে শুরু করে। কারণ চাহিদা হ্রাসের ফলে নির্মাতারা উৎপাদন কমিয়ে আনছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের পিএমআই পূর্বাভাসের চেয়ে কম ছিল। গত নভেম্বরে তা সাত মাসের সর্বোচ্চ ৪৭ দশমিক ২ পয়েন্ট ছিল। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল বলছে, গত ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্যের পিএমআই ছিল ৪৬ দশমিক ২ পয়েন্ট, যা প্রত্যাশিত ৪৬ দশমিক ৪ পয়েন্টের চেয়ে কম। মূলত মধ্যবর্তী ও ভোগ্যপণ্য খাতের দুর্বলতার কারণে টানা ১০ মাস ধরে উৎপাদন কার্যক্রম কমেছে।