নিউজিল্যান্ডের অর্থনীতি ১৮ মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো মন্দা দেখল। গত বছরের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) দেশটির অর্থনীতি দশমিক ১ শতাংশ সংকুচিত হয়েছিল। ওই সময়ে মাথাপিছু আয় দশমিক ৭ শতাংশ কমেছিল বলে গতকাল জানায় নিউজিল্যান্ডের সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা স্ট্যাটস এনজেড। খবর এপি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকেও (জুলাই-সেপ্টেম্বর) জিডিপি কমেছিল দশমিক ৩ শতাংশ।

সর্বশেষ এ মন্দার জন্য দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউজিল্যান্ডকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদহার বাড়ানোর আগ্রাসী নীতি দেশের অর্থনীতিকে মন্দার দিকে নিয়ে গেছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক দুরবস্থার জন্য ব্যাপক হারে অভিবাসনকেও দায়ী করা হচ্ছে।

স্ট্যাটস এনজেড বলছে, সর্বশেষ পাঁচটি প্রান্তিকের মধ্যে চারটিতেই ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি দেখেছে কিউই অর্থনীতি। পাঁচ প্রান্তিকে গড়ে দেশটির মাথাপিছু আয় কমেছে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ। এ পরিসংখ্যান কোনো দেশের পক্ষেই ভালো হতে পারে না বলে মন্তব্য বিশ্লেষকদের।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বেশকিছু উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের নীতি প্রণয়ন ও বিদ্যমান নীতি উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী ডেভিড সেমোর। তিনি বলেন, ‘বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মীদের সংখ্যা কমানোসহ দেশের আসন্ন বাজেট কাটছাঁট করতে পারে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা মন্দায় পড়েছি। তবে এটি নতুন কিছু নয়। প্রকৃতপক্ষে আমরা মন্দার মধ্যেই বসবাস করছিলাম।’

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নিউজিল্যান্ডের অর্থনীতির এমন অবস্থা হওয়ার পেছনে মূল কারণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চড়া সুদহার। রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউজিল্যান্ড মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকবার সুদহার বাড়িয়েছে। মূলত এ কারণেই অর্থনীতি সংকুচিত হচ্ছে।

গত বছর দেশটিতে ১ লাখ ৩৩ হাজার নতুন অভিবাসী এসেছে। এখন সমালোচনার মুখে অভিবাসন নীতিতে আরো কড়া পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। তা না হলে নিউজিল্যান্ডের অর্থনৈতিক অবস্থা আরো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অবশ্য এ অবস্থায় রাজনৈতিক দোষারোপ থেমে নেই। নিউজিল্যান্ডের অর্থমন্ত্রী নিকোলা উইলিস মন্দার জন্য গত বছরের অক্টোবরে বিদায় নেয়া লেবার পার্টির নেতৃত্বাধীন সরকারকে দায়ী করছেন। তার মতে, এ মন্দার জন্য লেবার পার্টির সরকারের ‘বড় ব্যয়, বড় কর’ নীতি দায়ী।

নিকোলা উইলিস বলেন, ‘এটা খুবই উদ্বেগের যে আমরা মন্দায় পড়েছি। তবে সুখবর হচ্ছে, আমাদের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সঠিক পথেই আছে। গত সপ্তাহে ফলের দাম ৯ শতাংশেরও বেশি কমেছে।’

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালেও মন্দার প্রভাব পড়েছিল নিউজিল্যান্ডের অর্থনীতিতে। তবে ওই সময় পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। কভিড-১৯ মহামারীর জেরে তখন দেশটির রফতানি সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। সে মন্দা কাটিয়ে ছন্দে ফিরেছিল অর্থনীতি। এরপর গত বছরের জুনে ফের মন্দায় পড়ে দেশটি।

টানা দুটি প্রান্তিকে অর্থনীতি সংকুচিত হলে মন্দা বলে ধরে নেয়া হয়। সম্প্রতি এমন পরিস্থিতি দেখছে আরো দুটি বড় অর্থনীতি। গত ফেব্রুয়ারিতে অভ্যন্তরীণ ভোগ ব্যয় কমে যাওয়ায় অপ্রত্যাশিতভাবে সংকুচিত হয় জাপানের অর্থনীতি, যা দেশটিকে মন্দার দিকে ঠেলে দেয়। একই সঙ্গে দেশটি তৃতীয় থেকে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়। অর্থনৈতিকভাবে মন্থর অবস্থা পার করলেও এ সুযোগে তালিকার তৃতীয় স্থানে উঠে আসে ইউরোপের দেশ জার্মানি। প্রায় একই সময়ে মন্দায় পড়ে যুক্তরাজ্যও। অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে দেশটির অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে দশমিক ৩ শতাংশের বেশি। এর আগে জুলাই-সেপ্টেম্বরে প্রান্তিকেও দেশটির অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছিল।