চীনা অর্থনীতি ২০২৩ সালে দ্রুত পুনরুদ্ধার করবে এবং পুনরায় বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হবে বলে আশা করেছিলেন অর্থনীতিবিদরা। যদিও দেশটির অর্থনীতি এখনো শ্লথতার ফাঁড়া কাটাতে পারেনি। ২০২৪ সালে এ সংকট আরো গভীর হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। নিম্নমুখী জনসংখ্যা, চাহিদা কমে যাওয়া, তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব, প্রপার্টি ও ব্যাংক খাতের ধসকে এ সংকটের জন্য দায়ী করা হচ্ছে। খবর সিএনএন।
অর্থনীতিবিদদের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটি ২০২৩ সালে প্রায় ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করবে। তবে এটি এখনো কভিড মহামারীর আগের দশকের গড় ৬ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধির নিচে রয়েছে। ২০২৪ সালে দেশটির অর্থনীতি স্ট্যাগফ্লেশন (নিম্ন প্রবৃদ্ধি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও কর্মহীনতা) প্রকট হয়ে ওঠার পূর্বাভাস দিচ্ছেন কেউ কেউ।
অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, ২০২৪ সালে চীনা অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জিডিপির ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা। এটি সম্ভবত ৪ দশমিক ৫ শতাংশের ওপরে হবে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে নিচে।
বিশ্লেষকরা জানান, ১৯৭৮ সালে অর্থনীতিকে উন্মুক্ত করে দেয়ার পর গত কয়েক দশকে সবচেয়ে দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে চীন। ১৯৯১ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে দেশটি বার্ষিক ১০ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধির দেখা পেয়েছে। চীনের নেতা শি জিনপিংয়ের শাসনামলে অর্থনীতির সম্প্রসারণ ধীর হয়েছে। তবে ২০২১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত গড় প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৭ শতাংশ রয়েছে।
গবেষণাপ্রতিষ্ঠান আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো ডেরেক সিজার্স বলেছেন, ‘২০২৪ সালের দ্বিতীয়ার্ধে প্রবৃদ্ধি ধীর হবে। জনসংখ্যা কমায় রিয়েল এস্টেট খাতে হবে।’
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) গত নভেম্বরে পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২৩ সালে চীনের প্রবৃদ্ধির হার ৫ দশমিক ৪ শতাংশ হবে। বার্ধক্যজনিত জনসংখ্যার চাপে ক্রমে উৎপাদন কমে যাবে। প্রবৃদ্ধি ধীরে ধীরে কমে ২০২৮ সালে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসবে।
অর্থনীতিবিদরা জানান, চীনের অর্থনীতি রাতারাতি এ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েনি। প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওয়ের প্রশাসন ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাপী আর্থিক সংকটের সময় প্রবৃদ্ধি বাড়াতে নগদ অর্থপ্রবাহ বাড়িয়ে দিয়েছিল। ২০১২ সালে ক্ষমতায় আসার পর শি জিনপিংয়ের সরকার ঋণ নেয়া কমাতে রাজি হয়নি। ফলে কাঠামোগত সমস্যা তৈরি হয়েছে।
গবেষণাপ্রতিষ্ঠান রোডিয়াম গ্রুপের চায়না মার্কেট রিসার্চের ডিরেক্টর লোগান রাইট বলেছেন, ‘চীনের অর্থনীতির মন্দা কাঠামোগত। এটা গত এক দশকে ঋণ ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ শেষ হওয়ার পরিণতি। দেশের আর্থিক সংস্থাগুলো আর আগের মতো ঋণ দিতে পারবে না। তাই অতীতের তুলনায় অর্থনীতির ওপর নিয়ন্ত্রণ কমে যাবে চীনা কর্তৃপক্ষের।’
অর্থনীতিবিদরা জানান, রিয়েল এস্টেট খাতে সংকট আরো গভীর হয়েছে। নতুন বাড়ি বিক্রি কমে গেছে। কান্ট্রি গার্ডেনের মতো বড় ডেভেলপারদের ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ব্যাংক খাতে। অনেক কোম্পানি এরই মধ্যে ঋণখেলাপি হয়েছে। বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ক্রমে চীন থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছেন। তৃতীয় প্রান্তিকে চীনে সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবারের মতো নেতিবাচক পর্যায়ে নেমেছে।










