দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে আবারো কমেছে পেঁয়াজের দাম। তিনদিনের ব্যবধানে পাইকারিতে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম কমেছে জাতভেদে ১-২ টাকা করে। বন্দর দিয়ে আমদানি বাড়ায় দাম কমেছে বলে জানান বাজারসংশ্লিষ্টরা।

হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহতভাবে বাড়ছে। ভারত থেকে ইন্দোর ও নাসিক জাতের পেঁয়াজ কিনছেন আমদানিকারকরা। গতকাল বন্দরে পাইকারিতে (ট্রাকসেল) ইন্দোর জাতের প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে সাড়ে ২৬-২৭ টাকা দরে। তিনদিন আগেও এ জাতের পেঁয়াজ ২৭-২৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। এর দুদিন আগে ইন্দোর জাতের পেঁয়াজের দাম ছিল ৩০-৩১ টাকা। এদিকে গতকাল নাসিক জাতের পেঁয়াজের দাম কমে কেজিপ্রতি ৩০ টাকায় নেমেছে। তিনদিন আগেও এটি ৩২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের বাজারে চাহিদা বেশি। এ কারণে আমদানিকারকরা ভারত থেকে পেঁয়াজ ক্রয়ের পরিমাণ বাড়িয়েছেন। ফলে সরবরাহ বাড়তে থাকায় পণ্যটির দাম কমছে।

হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা ইসমাইল হোসেন বলেন, চলতি সপ্তাহের প্রথম দিন থেকেই বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি যেমন কমেছিল তেমনি দাম বাড়তির দিকে ছিল। লাভ না থাকায় পেঁয়াজ কেনা থেকে বিরত ছিলাম। তবে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বাড়ায় দাম কমতে শুরু করেছে। ফলে আবারো পেঁয়াজ কিনে মোকামে পাঠানো শুরু করেছি।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক মোজাম হোসেন ও ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম বলেন, ভারতের বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় সেই দামে আমদানি করে লোকসান গুনতে হচ্ছিল। এ কারণে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি কমিয়ে দিই। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমায় দাম বাড়তির দিকে ছিল। তবে সম্প্রতি দেশের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী চাহিদার কারণে আমদানি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এ কারণেই দাম কমতে শুরু করেছে।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি আগের তুলনায় বেড়েছে। আগে বন্দর দিয়ে ১০-১৫ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ২৫-৩০ ট্রাকে উন্নীত হয়েছে। গত ২ আগস্ট বন্দর দিয়ে মাত্র ছয় ট্রাকে ১৭২ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। কিন্তু গত শনিবার বন্দর দিয়ে ২০ ট্রাকে ৫৬১ টন, রোববার ৩০ ট্রাকে ৮৫১ টন, সোমবার ২৯ ট্রাকে ৮৫১ টন ও মঙ্গলবার ৩৫ ট্রাকে এক হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়।