সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে রেকর্ড বেড়েছে রোবাস্তা কফির দাম। ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে পানীয় পণ্যটি। আবহাওয়ায় এল নিনোর প্রভাব রোবাস্তার বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনকে বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। প্রধান দেশগুলোয় পণ্যটির উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর ইন্ডিয়া টাইমস। 

লন্ডনে প্রতি টন রোবাস্তা কফির ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্য বেড়ে ২ হাজার ৭৯০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। ২০০৮ সালের পর এটিই সর্বোচ্চ। সেপ্টেম্বরে সরবরাহের জন্য চুক্তি হওয়া প্রতি টনের দাম বেড়েছে ৯১ ডলারেরও বেশি।

কফি বিন সাধারণত দুই জাতের হয়। একটি অ্যারাবিকা, অন্যটি রোবাস্তা। উচ্চমাত্রার কড়া ক্যাফেইনের জন্য রোবাস্তা কফি জনপ্রিয়। অ্যারাবিকা কফির চেয়ে তুলনামূলকভাবে তেতো স্বাদের এই কফি। মূলত ইনস্ট্যান্ট কফি ও এসপ্রেসো তৈরিতে এটি ব্যবহার হয়। 

মার্কিন আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্র এরই মধ্যে এল নিনো ফিরে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পূর্বাভাসদাতাদের বিশ্বাস, এই এল নিনো অন্যগুলোর চেয়ে তীব্র ও শক্তিশালী হতে যাচ্ছে। এল নিনোর কারণে প্রধান রোবাস্তা কফি উৎপাদক দেশগুলোয় খরা দেখা গেছে।

ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল ও ভিয়েতনাম বিশ্বের শীর্ষ রোবাস্তা কফি উৎপাদক। এসব দেশে তাপমাত্রা এরই মধ্যে বাড়তে শুরু করেছে। আবাদি অঞ্চলগুলোয় পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হচ্ছে না। ফলে রোবাস্তা কফির বৈশ্বিক সরবরাহ হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকরা জানান, সব দেশেই রোবাস্তা কফির মজুদ অনেক কমে গেছে। ব্রাজিলে কফি সংগ্রহ মৌসুম চলছে। দাম যে হারে বেড়েছে তা ব্রাজিলের ব্যবসায়ীদের রফতানি বাড়াতে উৎসাহিত করছে।

চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত রোবাস্তার দাম ৫০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। বিনটির বর্তমান সরবরাহ ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। অ্যারাবিকা কফির চেয়ে তুলনামূলক সস্তা রোবাস্তা কফি। কিন্তু দাম বাড়ায় কফিপ্রেমীদের জন্য এটিও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ছে।

বিশ্বের শীর্ষ দেশ ভিয়েতনামে রোবাস্তা কফি উৎপাদন কমে চার বছরের সর্বনিম্নে নামতে পারে। ব্রাজিলে উৎপাদন ৫ শতাংশ কমার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ায় উৎপাদন কমতে পারে ২০ শতাংশ।