সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে আর্থিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাজ্য। সুইস শহর বার্নে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে দুই দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন ব্রিটিশ এক্সচেকারের চ্যান্সেলর জেরেমি হান্ট ও সুইস ফেডারেল কাউন্সিলর ক্যারিন কেলার সাটার। খবর বিবিসি।

চুক্তি স্বাক্ষর শেষে চ্যান্সেলর জেরেমি হান্ট বলেন, ‘‌এ চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাজ্য ও সুইস আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একে অন্যের সঙ্গে লেনদেন করার কাজ সহজ হবে।’

যুক্তরাজ্য ও সুইজারল্যান্ডের আর্থিক সেবা বাণিজ্যের পরিমাণ ৩০০ কোটি ডলারের বেশি। নতুন বার্ন ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস চুক্তির ফলে সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য একে অন্যের বিধিগুলোকে স্বীকৃতি দেবে এবং গ্রহণ করবে।

জেরেমি হান্ট বলেন, ‘‌আমরা একে অন্যের বাজারকে এমনভাবে উন্মুক্ত করছি, যা প্রতিযোগিতা ও পছন্দকে গুরুত্ব দেবে। চুক্তিটি শুধু ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্য বাইরে থাকার কারণেই সম্ভব হয়েছে। নতুন ধরনের এ চুক্তি ভবিষ্যতের কোনো চুক্তির ক্ষেত্রে একটি টেমপ্লেট হিসেবে ব্যবহার করবে।’

চুক্তির অধীনে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থাগুলো সুইস গ্রাহকদের সেবা দিতে পারবে এবং সুইস সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রেও এটি সমানভাবে প্রযোজ্য।

জেরেমি হান্ট বলেন, ‘‌সংস্থাগুলো অধিক লাভের জন্য সম্পদ ব্যবস্থাপনা, পাইকারি বীমা ও ব্যাংকিং মার্কেটে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক যখন চ্যান্সেলর ছিলেন তখন ২০২০ সালের জুন থেকে এ নিয়ে আলোচনা চলছে।’

ব্রিটিশ আর্থিক খাতের নীতিনির্ধারকরা বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ‌চুক্তিটি ডায়নামিক। ফলে সময়ের সঙ্গে উভয় বাজারে বিকশিত হবে।

সুইজারল্যান্ডের ২ লাখ কোটি ডলারের বেশি সম্পদ রয়েছে, যা বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত। এটি বীমা ও পুনর্বীমার জন্যও একটি প্রধান কেন্দ্র। যেখানে বীমা কোম্পানিগুলো অস্বাভাবিকভাবে বড় বা বিপর্যয়কর ক্ষতির বিরুদ্ধে নিজেদের বীমা করে থাকে।

জেরেমি হান্ট বলেন, ‘‌এ ধরনের চুক্তি যুক্তরাজ্যের সক্ষমতায় ভূমিকা রাখে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পর যুক্তরাজ্যের তৃতীয় বৃহত্তম নন-ইউরোপীয় বাণিজ্য অংশীদার সুইজার‍ল্যান্ড।’

যুক্তরাজ্যের অর্থ প্রধানরা আশা করছেন, সুইস চুক্তিটি অন্যান্য বড় আর্থিক কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে চুক্তির জন্য একটি মডেল তৈরি করবে।

প্রসঙ্গত, জেরেমি হান্ট ও ক্যারিন কেলার সাটারের ওই বৈঠকে আর্থিক সেবা চুক্তির বাইরে দুই দেশের গভীর ও বিস্তৃত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।