মে মাসে চীনে দৈনিক কয়লা উত্তোলন এপ্রিলের তুলনায় কমেছে। দেশটিতে বর্তমানে কয়লার চাহিদা কিছুটা কম। এ পরিস্থিতিতে মজুদের ওপর চাপ কমাতে খনিগুলো উত্তোলন কমিয়ে দিয়েছে। দেশটির ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকস (এনবিএস) সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
এনবিএসের দেয়া তথ্যমতে, চীন গত মাসে ৩৮ কোটি ৫৫ লাখ টন কয়লা উত্তোলন করেছে। প্রতিদিন উত্তোলনের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ২৪ লাখ ৪০ হাজার টন। এপ্রিলে দৈনিক উত্তোলনের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ২৭ লাখ ২০ হাজার টন। এছাড়া গত বছরের একই সময় উত্তোলনের পরিমাণ ছিল দৈনিক ১ কোটি ২০ লাখ ৯০ হাজার টন।
জানুয়ারি-মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে দেশটি ১৯১ কোটি টন কয়লা উত্তোলন করে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উত্তোলন বেড়েছে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। চীনের শীর্ষ কয়লা হাব শাংসি ও ইনার মঙ্গোলিয়া। এসব এলাকার ৪৪২টি প্রধান খনিতে গড় জোগানের হার কমে ৮৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেমেছে, যা এপ্রিলে ছিল ৮৫ দশমিক ২ শতাংশ। কোল ট্রান্সপোর্টেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন অ্যাসোসিয়েশন এ তথ্য জানিয়েছে।
জুনের শুরুতে চীনের বন্দর ও শীর্ষ কয়লাচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোয় কয়লার মজুদ বেড়ে রেকর্ড সর্বোচ্চ উন্নীত হয়। উৎপাদন খাতে বিদ্যুতের ব্যবহার কমে যাওয়াই এর প্রধান কারণ। করোনা মহামারীসংক্রান্ত বিধিনিষেধ উঠিয়ে নেয়ার পরও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে হিমশিম খাচ্ছে চীন। কমছে রফতানিও। এ বিষয়গুলো বিদ্যুতের ব্যবহার কমে যাওয়ার পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে।
তবে আগামী দিনগুলোয় চীনে কয়লার চাহিদা ফের বেড়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। কারণ দেশজুড়ে তীব্র গরম আবহাওয়া দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাড়বে বিদ্যুতের চাহিদাও। যদিও নিকট ভবিষ্যতে চাহিদা লক্ষণীয় মাত্রায় বাড়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানান বাজার বিশ্লেষকরা।
আটটি উপকূলীয় প্রদেশে গত মাসে কয়লার ব্যবহার বেড়ে ২১ লাখ ৫০ হাজার টনে উন্নীত হয়েছে, যা মে মাসের শেষ দিকের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেশি। তথ্য বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান উইন্ড এ তথ্য জানিয়েছে।
কয়লার বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান এসএক্সকোলের বিশ্লেষক জ্যাং ইয়ান বলেন, ‘স্থানীয় অর্থনীতি পুনরুদ্ধার পর্যায়ে আছে। এ পরিস্থিতিতে শিল্প খাতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের হার সীমিত। শুধু তাপমাত্রা বাড়ার কারণে উচ্চ মাত্রায় কার্যক্রম পরিচালনা করা বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জন্য কঠিন।’
মে মাসে চীনে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৬৮ হাজার ৮৬০ কোটি কিলোওয়াট প্রতি ঘণ্টা, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। জানুয়ারি-মে পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৩ দশমিক ৪২ ট্রিলিয়ন কিলোওয়াট প্রতি ঘণ্টা, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।










