২০২১-২২ অর্থবছরে পাকিস্তানের ভোজ্যতেল আমদানি গত বছরের তুলনায় লক্ষণীয় মাত্রায় বাড়তে পারে। দেশটিতে ভোজ্যতেলের ব্যবহার বাড়লেও উৎপাদনে মন্দা ভাব দেখা দিয়েছে। এ কারণে আমদানি বাড়াচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেশি থাকায় দেশটির ভোজ্যতেল আমদানি ব্যয়ও ঊর্ধ্বমুখী। খবর ডন।

পাকিস্তানে মাথাপিছু ভোজ্যতেল ব্যবহারের হার ২৪ কেজি। এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ মাথাপিছু ব্যবহার। বাজার বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা, চলতি অর্থবছর পাকিস্তান সব মিলিয়ে ৩৫ লাখ টন ভোজ্যতেল আমদানি করবে। গত অর্থবছর আমদানির পরিমাণ ছিল ৩৫ লাখ টন। সে হিসাবে আমদানি বাড়বে প্রায় ৫ শতাংশ।

পাকিস্তানের ভোজ্যতেল ও ঘি ব্যবসায়ী আরিফ কাসিম বলেন, সরবরাহসহ বহুমুখী সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম ক্রমে বাড়ছে। এ কারণে ভোজ্যতেল আমদানি ব্যয় গত বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ বাড়তে পারে। পাঁচ বছরের আমদানি তথ্য বলছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের পর থেকে প্রতি বছর গড়ে ১০ শতাংশ করে বেড়েছে ভোজ্যতেল আমদানি ব্যয়।

কাসিম বলেন, এ বছর পাকিস্তানে ৪৫ লাখ টন ভোজ্যতেল ও ঘি ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আফগানিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য শুরু হলে ব্যবহারের পরিমাণ আরো পাঁচ লাখ টন বাড়তে পারে। এদিকে ভোজ্যতেলের ব্যবহার এমন এক সময় বেড়েছে, যখন দেশীয় তেলবীজ উৎপাদন কমে গেছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে পাকিস্তানের তেলবীজ উৎপাদন ১৯ শতাংশ কমে যায়। উৎপাদন কমতে থাকায় তেলবীজ আমদানিও বাড়াচ্ছে পাকিস্তান।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানায়, চলতি বছর পাকিস্তানের তেলবীজ আমদানি গত বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ বাড়তে পারে। আমদানির পরিমাণ দাঁড়াবে ৩৫ লাখ ৩০ হাজার টনে।

পাকিস্তান ভোজ্যতেল পরিশোধক অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান রাশেদ জানমোহাম্মেদ বলেন, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে পাকিস্তান ২৭ লাখ ৩০ হাজার টন ভোজ্যতেল আমদানি করেছে। এদিকে সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে সরবরাহের জন্য আরো আট লাখ টনের চুক্তি করা হয়েছে।

কাসিম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে গত বছর প্রতি টন পাম অয়েল লেনদেন হয়েছে প্রায় ৭৫০ ডলারে। কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে পণ্যটির দাম বাড়তে শুরু করে। নভেম্বর নাগাদ প্রতি টন পাম অয়েলের দাম ১ হাজার ২০০ ডলারে পৌঁছতে পারে।

পাকিস্তানের আমদানীকৃত ভোজ্যতেলের ৮০ শতাংশই পাম অয়েল। এর বাইরে দেশটি সয়াবিন ও অলিভ অয়েল আমদানি করে। দেশটি ৭৫ শতাংশ পাম অয়েলই মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করে। এছাড়া সয়াবিন তেল যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল থেকে আমদানি করা হয়।