চীনের ইনার মঙ্গোলিয়া ও শানসি প্রদেশের কয়লা খনিগুলোতে উত্তোলনের পরিমাণ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে দেশটির প্রশাসন। একই সঙ্গে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে গ্রাহকদের কাছে উচ্চমূল্য নির্ধারণ করার অনুমতি দিয়েছে চীন। চলতি বছর দেশটি ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট অতিবাহিত করছে। খবর রয়টার্স।
ইনার মঙ্গোলিয়া ও শানসি প্রদেশের প্রশাসন কয়লা খনিগুলোকে তাদের বার্ষিক উত্তোলন ক্ষমতা ১৬ কোটি টনের বেশি বৃদ্ধি করার নির্দেশ দেয়। চীনের মন্ত্রিসভা জানায়, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের দাম তার ভিত্তিমূল্য থেকে ২০ শতাংশের বেশি ওঠা-নামা করবে না। উচ্চ জ্বালানি গ্রহণকারী খাতগুলোর ক্ষেত্রে তাদের পূর্ববর্তী চাহিদা বজায় রাখা বা চাহিদা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এ নীতি প্রযোজ্য হবে।
চীন জানায়, নতুন এ মূল্যতালিকা মূলত উচ্চমাত্রার বিদ্যুৎ ব্যবহার রোধে প্রণয়ন করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এমনটা জানা যায়। তবে আবাসিক, কৃষি ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা হবে। তাপকয়লার উচ্চমূল্য ও বিদ্যুতের ঘাটতি চীনজুড়ে শিল্প খাতের উৎপাদন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ক্ষতের সৃষ্টি করেছে।
চীনের বৃহত্তম কয়লা উৎপাদন অঞ্চল শানসিতে অবস্থিত ৯৮টি কয়লা খনিকে চলতি বছর তাদের বার্ষিক উত্তোলনের পরিমাণ ৫ কোটি ৫৩ লাখ টন বৃদ্ধির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রদেশটির একজন সরকারি কর্মকর্তার বরাতে এমনটা জানা যায়।
একই সময়ে প্রদেশটির ৫১টি কয়লা খনি যারা তাদের সর্বোচ্চ উত্তোলনসীমা পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাদের ক্ষেত্রে বছরের চতুর্থ প্রান্তিকেও তা বজায় রাখার অনুমতি দেয়। পাশাপাশি তাদের ধারণক্ষমতা ৮০ লাখ টন বৃদ্ধির অনুমতি দেয়। ফলে চলতি বছর এসব খনি থেকে ২ কোটি ৭ লাখ টন অতিরিক্ত কয়লা সংগ্রহের আশা করছে চীন।
চীনের দ্বিতীয় বৃহত্তম কয়লা খনি অঞ্চল ইনার মঙ্গোলিয়ায় ৭ অক্টোবর এ জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে খনিগুলোতে তাদের সর্বোচ্চ উত্তোলন ক্ষমতা ব্যবহার করতে নির্দেশ দেয়। প্রদেশটির জ্বালানি শক্তি বিভাগের এ বিজ্ঞপ্তিতে ৭২টি কয়লা খনিকে তাত্ক্ষণিকভাবে নিরাপদভাবে তাদের নির্ধারিত মাত্রায় সর্বোচ্চ উত্তোলন ক্ষমতা ব্যবহারের নির্দেশ দেয়া হয়। তবে ঠিক কত দিন নাগাদ উত্তোলনের বাড়তি মাত্রা বজায় থাকবে, সে ব্যাপারে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা।
বেইজিংভিত্তিক এক ব্যবসায়ী জানান, বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় কয়লা উত্তোলন বৃদ্ধির ব্যাপারে সরকার বেশ কঠিন অবস্থানে রয়েছে।
খনি অঞ্চলগুলোতে বাড়তি উত্তোলনের মাত্রা বাস্তবায়ন করতে দু-তিন মাস সময় লাগতে পারে বলেও জানান এ ব্যবসায়ী।










