নির্বাচনের সময় এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ভারত সরকারের বেসরকারীকরণের প্রক্রিয়া অনেকটা থমকে গেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি দেশটির সরকার বিরূপ প্রতিক্রিয়া এড়ানোর জন্য এখন সম্পূর্ণ বেসরকারীকরণের পরিবর্তে সামান্য শেয়ার বিক্রয় করছে। ফলে ভারত সম্ভবত চলতি অর্থবছরে পুনরায় বেসরকারীকরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হবে। খবর হিন্দুস্তান টাইমস।
ভারত পেট্রোলিয়াম লিমিটেড, শিপিং করপোরেশন অব ইন্ডিয়া ও কনকোরের মতো বড় প্রতিষ্ঠান বেসরকারীকরণের পরিকল্পনা স্থগিত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, অর্থবহ বেসরকারীকরণ কেবল এপ্রিল-মে মাসের সাধারণ নির্বাচনের পরেই হতে পারে।
চলতি অর্থবছরে শিপিং করপোরেশন, এনএমডিসি স্টিল লিমিটেড, বিইএমএল, এইচএলএল লাইফকেয়ার ও আইডিবিআই ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি সেন্ট্রাল পাবলিক সেক্টর এন্টারপ্রাইজের (সিপিএসই) শেয়ার বিক্রির কথা রয়েছে। বেশির ভাগ সিপিএসইগুলোর ক্ষেত্রে কোর ও নন-কোর সম্পত্তিগুলোর নিরীক্ষা ও বিভাজনের প্রক্রিয়া এখনো শেষ না হওয়ায় আর্থিক দরপত্র আহ্বান দেরি হচ্ছে।
আইডিবিআই ব্যাংক ক্ষেত্রে যেখানে সরকার ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে একাধিক ইওআই (এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট) পেয়েছিল, দরদাতারা এখনো যথাক্রমে সরকার ও ভারতীয় রিজার্ভ বাংকের (আরবিআই) কাছ থেকে সিকিউরিটি ও ‘ফিট অ্যান্ড প্রপার’ ছাড়পত্র পাননি।
বর্তমানে ডিপার্টমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড পাবলিক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের আওতায় বেসরকারীকরণের জন্য ১১টি লেনদেন প্রক্রিয়াধীন। একজন বাজার বিশেষজ্ঞ জানান, কৌশলগত বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্তগুলো রাজনৈতিক প্রয়োজনীয়তার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। যেহেতু নির্বাচন আসন্ন, তাই কৌশলগত বিক্রয়ের কোনো অগ্রগতি আপাতত আশা করা যাচ্ছে না।
২০২৪ সালের এপ্রিল-মে মাসে ভারতের সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা। ফিচ রেটিং সংস্থা পূর্বাভাস করেছে, আগামী নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদির প্রশাসনের আবারো ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাষ্ট্রীয় ইস্পাত নিগম লিমিটেডের কৌশলগত বিক্রয় নিয়ে সরকারের সামনে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলো কর্মচারী ইউনিয়নগুলোর তীব্র বিরোধিতা। যদিও সরকার ২০২২ সালে নীলাচল ইস্পাত নিগম লিমিটেড কোম্পানিকে টাটা স্টিল লং প্রডাক্টসের কাছে ১২ হাজার ১০০ কোটি রুপিতে বিক্রি করেছে। তবে রাষ্ট্রীয় ইস্পাত নিগম লিমিটেডের কোম্পানির কর্মচারীদের দাবি এ দায়িত্ব যেন পাবলিক সেক্টরের কোনো সংস্থাকে দেয়া হয়।










