চীনের প্রায় ৬৮ শতাংশ প্রবীণ নাগরিক অবসরের পরও কর্মক্ষেত্রে ফিরে যেতে চান। চীনা রিক্রুটমেন্ট ওয়েবসাইট ফিফটিওয়ানজবসডটকম গত বছরের অক্টোবরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। চীনের জাতীয় আদমশুমারি ২০২০ অনুযায়ী, দেশটির কর্মরত জনসংখ্যার ৮ দশমিক ৮ ভাগ বা ৬ কোটি ৬০ লাখ লোকের বয়স ৬০ বা তারও বেশি। যারা আবার কর্মস্থলে ফিরতে আগ্রহী। খবর সিজিটিএন।
বার্ধক্যবিষয়ক চীনের ন্যাশনাল কমিটির সিনিয়র ট্যালেন্ট ইনফরমেশন সেন্টারের ট্যালেন্ট ডিপার্টমেন্টের উপপরিচালক লং শি বলেছেন, নিরাপত্তারক্ষী, দোকান সহকারী, প্রকৌশলী ও গবেষকসহ আরো অনেক পেশার বয়স্ক ব্যক্তিরা আবার কাজে ফিরেছেন। তাদের প্রায় সবাই নিজেদের ‘স্বাস্থ্যবান ও উদ্যমী’ থাকার কথা জানিয়েছেন। তারা সবার কাছে ‘প্রাণবন্ত প্রবীণ’ হিসেবে পরিচিত।
৬০ বছর বয়সী ওয়াং ওয়েনলং বেইজিংয়ের হুটং গলির একটি রেস্টুরেন্টের মালিক। অবসরে যাওয়ার পর তিনি চারজন কর্মচারী নিয়ে একটি পর্ক হকসের (শুকুরের মাংসের) রেস্তোরাঁ চালাতেন। সেখানে প্রতিদিন অন্তত ১০০টি পর্ক হকস বিক্রি হতো। ওয়াং মনে করেন, নতুন স্কিল শেখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে তিনি পর্ক হকস বেচার জন্য টিকটকে অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। ওয়াং বলেন, ‘আমি আমার কাজকে উপভোগ করি। এখানেই আমি আনন্দ পাই।’
৬৪ বছর বয়সী আঙ্কেল সান পেশায় গবেষক। অবসর গ্রহণের পর তিনি আবার নিয়োগ পেয়েছেন। তার কাজে ফিরে আসার উদ্দেশ্য হচ্ছে তিনি যে জ্ঞান অর্জন করেছেন, তা দিয়ে আরো কিছু কাল সমাজের সেবা করা। সান বলেন, ‘অর্থ উপার্জন আমার কাছে মুখ্য বিষয় নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমার সক্ষমতাকে কাজে লাগানো।’
৬৭ বছর বয়সী নারী ইনফ্লুয়েন্সার আন্টি ডু লিটল রেড বুকে বেশ জনপ্রিয়। চাইনিজ ইনস্টাগ্রাম নামে পরিচিত এ সোশ্যাল মিডিয়ায় তার ১০ হাজারেরও বেশি ফলোয়ার রয়েছে। ডু এটা বোঝাতে চান যে যদি বয়স্ক ব্যক্তিরা নতুন প্রযুক্তি ও অন্যান্য নতুন জিনিস গ্রহণ করতে পারেন, তবে তারাও বেশ ট্রেন্ডি হয়ে উঠতে পারেন।
এ গল্পগুলো আবারো প্রমাণ করে প্রবীণদের কাজ করার দৃঢ় মনোবল রয়েছে। ফিফটিওয়ানজবডটকমের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৪৬ দশমিক ৭ শতাংশ পেনশনভোগী ব্যক্তিগত ও সামাজিক মূল্যবোধের কারণে কর্মক্ষেত্রে ফিরে আসেন। আরো ১৯ শতাংশ ক্যারিয়ারকে এগিয়ে নেয়ার আশায় কাজ করতে আগ্রহী।
চীনের ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর সোশ্যাল সিকিউরিটি ফান্ডের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান চেন ওয়েনহুই বলেন, ‘মূলত আর্থিক সমস্যার কারণে বয়স্কদের মানসম্পন্ন জীবনযাপন বেশ কঠিন।
চীনে জিডিপির তুলনায় পেনশনের অনুপাত বেশ কম এবং এর জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ বিনিয়োগ প্রয়োজন। তাই আবার কাজে ফিরলে প্রবীণদের এ আর্থিক চাহিদা সহজে পূরণ করা সম্ভব।
২০২২ সালের সরকারি তথ্য মতে, চীনের ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী জনসংখ্যার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ কোটিরও বেশিতে। যা মোট জনসংখ্যার ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ। চীনের প্রবীণ জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতে আরো বেশিসংখ্যক বয়স্ক লোক কর্মক্ষেত্রে যুক্ত থাকতে চাইবেন বলে আশা করা হচ্ছে।










