চলতি মাসে এসে টানা তৃতীয় মাসের মতো কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে যুক্তরাজ্যের ভোক্তা পণ্যের মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি। মঙ্গলবার শিল্পটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গবেষণা সংস্থা এ-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে। দীর্ঘদিন ধরেই ঊর্ধ্বমুখী দেশটির ভোক্তা পণ্যের দাম। তবে দ্বিতীয় বছরে এসে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কিছুটা হ্রাসের কারণে জীবনযাত্রা সংকটে পতিত ক্রেতার জন্য খানিকটা স্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। খবর রয়টার্স।
বাজার গবেষণা সংস্থা কান্তার প্রদত্ত তথ্যানুসারে, ১১ জুন পর্যন্ত টানা চার সপ্তাহের মতো মুদি পণ্যের বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ছিল ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ, যা মে মাসের ১৭ দশমিক ২ শতাংশের তুলনায় কম। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ডিম, রান্নার সস ও হিমায়িত আলুর মতো পণ্যের দাম বেড়েছে দ্রুত।
এর আগে, ২০২৩ সালের মধ্যে মূল্যস্ফীতি অর্ধেকে নিয়ে আসার আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। ক্রমবর্ধমান খাদ্য মূল্যস্ফীতির কারণে এতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। তাই সামনের মাসগুলোয় মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতির বৃদ্ধি কিংবা হ্রাসের ওপর নিবিড় নজর রাখছেন ব্যাংক অব ইংল্যান্ড থেকে শুরু করে দেশটির আইন প্রণেতাসহ সংশ্লিষ্টরা।
কান্তারের খুচরা ও ভোক্তাবিষয়ক প্রধান ফ্রেজার ম্যাককেভিট বলেন, ‘আমরা ২০২৩ সালে মুদি পণ্যের মূল্যস্ফীতির সর্বনিম্ন হার অবলোকন করছি, বিষয়টি ক্রেতা ও খুচরা বিক্রেতাদের জন্য খানিকটা স্বস্তিদায়ক। যদিও গত ১৫ বছরের মধ্যে যা এখনো সর্বোচ্চ ষষ্ঠ মাসিক পরিসংখ্যান। পণ্যের মূল্য বৃদ্ধিকে গত গ্রীষ্মের ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি হারের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে, এর অর্থ আগামী মাসগুলোয়ও মূল্যস্ফীতি হ্রাসের হার অব্যাহত রাখা জরুরি। ’
যুক্তরাজ্যভিত্তিক শীর্ষ খুচরা বিক্রেতা টেসকোর পক্ষ থেকে শুক্রবার বলা হয়, খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি সহজ হতে শুরু করেছে, আমরা আশাবাদী বছরজুড়ে যা মাঝারি অবস্থানে বিরাজ করবে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় বাজারনেতা টেসকোসহ অন্যান্য প্রধান খুচরা ব্যবসায়ীরা তাদের কিছু পণ্যের দাম কমিয়েছে।
এদিকে ভোক্তা পণ্যের দাম বাড়াতে যুক্তরাজ্যের পরিবারগুলো তাদের ক্রয় আচরণে পরিবর্তন এনেছে। অনেকে আবার নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয়ে ব্র্যান্ডের বদলে সস্তা পণ্যে ঝুঁকেছেন। পাশাপাশি কম উপকরণ দিয়ে সহজ খাবার তৈরি ও মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করছেন।
বাজার গবেষণা সংস্থা কান্তার যুক্তরাজ্যের ভোক্তা পণ্যের মূল্যস্ফীতির হার সম্পর্কিত সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য প্রদান করে। গত এপ্রিলে দেশটির ভোক্তা পণ্যের মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৭ শতাংশ। খাদ্য ও পানীয়ের ক্ষেত্রে এটির পরিমাণ ছিল ১৯ দশমিক ১ শতাংশ। কান্তারের তথ্যানুসারে, চার সপ্তাহে ভোক্তা পণ্যের বিক্রয় ১০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে।
কিছুদিন আগে গার্ডিয়ানে প্রকাশিত সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়, জি-৭ অর্থনীতির মধ্যে যুক্তরাজ্যে মূল্যস্ফীতির সর্বোচ্চ হার বিদ্যমান। মার্চে যা ছিল ১০ দশমিক ১ শতাংশ, যদিও এপ্রিলে কিছুটা কমে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলেছিলেন, ব্রিটেনের একরোখা উচ্চ মূল্যস্ফীতি সম্ভবত ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সুদের হারকে ৫ শতাংশের ওপরে ঠেলে দিতে পারে।










